7ti-jinis-ja-mayeder-tulonae-babara-beshi-bhalobhabe-korte-paren-parenting-bangla

 

১. কাঁধে বা কোলে নিয়ে শিশুকে ঘোরানো

এই ধরণের ভূমিকা একজন মায়ের তুয়লনায় একজন বাবাই সবচেয়ে ভালভাবে নিতে পারেন। শিশু যখন দুস্টুমি করে, খেলতে চায় বা লাফাতে চায়, তার সবচেয়ে বড় সঙ্গী হলো তার বাবা। এই ক্ষেত্রে বাবা তাকে কাঁধে চড়িয়ে খেলানো থেকে শুরু করে কোলে নিয়ে ঘোরানো অবধি সব কিছুই করতে পারেন।

২. খেলার সঙ্গী

বাবা ছাড়া কেউই একজন শিশুর সবচেয়ে বড় খেলার সঙ্গী হতে পারেননা। শিশুকে খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া এবং তাকে গোড়া থেকে খেলাধুলা করার প্রতিটা পদক্ষেপ শেখানো একজন বাবার ভূমিকা।

৩. স্কুল থেকে বাড়িতে করতে দেওয়া পড়াশুনায় সাহায্য করা

বর্তমানে অধিক শতাংশ শিশুরা স্বীকার করেছে যে স্কুলের দেওয়া বাড়িতে সমস্ত রকমের পড়াশুনার কাজে বাবার মত করে সাহায্য কেউ করেনা। আমরা যদি আমাদের ছোটবেলার কোথাও মনে করি বা অন্যদের থেকে শুনে থাকি তাহলে একথা সবাই স্বীকার করে যে যতই ক্লান্ত হয়ে কর্মজীবন থেকে ফিরুক না কেন, শিশু যদি তার বাবার কাছ থেকে পড়াশুনার বিষয় সাহায্য চেয়ে থাকে, বাবা কখনই না করেননা।

৪. শাসক ও উপযাজক

বেশীরভাগ বাড়িতেই দেখা যায় শিশু তার মায়ের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকার ফলে অনেকসময়ই মাকে ভয় পায়না বা অগ্রাহ্য করে। এক্ষেত্রে বাবার ভূমিকা অনেক বড়। মা সারাদিন ধরে বলে গেলেও যেই কাজ একটি শিশুকে দিয়ে করাতে পারেনা, তা বাবা একবার যদি একটু গম্ভীর স্বরে বলে থাকে, তবে তা শিশু করে ফেলে।

৫. শিশুকে বুঝিয়ে খাওয়ানো ও ঘুম পড়ানো

শিশুর কাছে মা হয়তো সুস্বাধু খাদ্য রান্না করার জন্যে খুব জনপ্রিয় হতে পারেন কিন্তু সেই খাদ্য সুন্দর ভাবে তাকে গল্পের ছলে খাওয়ানো বা ঘুম পড়ানোর মুহূর্তে বাবা হল তার সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী। একজন বাবা এই ধরণের ভূমিকা শুধু যে সুন্দর ভাবে পালন করতে পারে তা নয়, এমনকি, শিশুকে বারবার সঠিক পরিমানে খাদ্যের প্রতি চাহিদা বাড়াতেও সাহায্য করে। ঠিক সেভাবেই ঘুম পড়ানোর সময় ও একটি শিশু তার বাবার কাছে অনেক বেশী ভাল থাকে।

৬. দুস্টুমি করার সঙ্গী

মা বাড়িতে না থাকা কালীন শিশু ও তার বাবার মধ্যে যেই খুনসুটির সম্পর্ক দেখা যায় তা আর কারুর মধ্যে দেখা যায়না। শিশু ও বাবা তাদের অবসর সময় কাটানোর জন্যে স্বাভাবিক বা চলতি জীবন যাপনের বাইরে গিয়ে অনেকরকম ভাবে তাদের মুহূর্তকে সুন্দর করে তোলে।

৭. সাহসিকতার পরিচয়

সংসারের অনেক ব্যবপারে মা যেখানে ভয় পেয়ে যান, সেসব ক্ষেত্রে বাবা অনেক বেশী সাহসিকতা দেখিয়ে সংসারের বহু জটিল সমস্যা সমাধান করে ফেলেন। উদাহরণ স্বরূপ দেখা গেছে যে বাড়ির এক কোণায় একটি আরশোলা দেখলে মা চিৎকার করে ওঠেন, এবং সেই সময় বাবা এসে সেই পরিস্থিতিতে সাহসিকতার সঙ্গে আরশোলাটিকে হাত দিয়ে সরিয়ে ফেলে দেন অর্থাৎ ভয় পাননা।

বর্তমানে বাবা বা মায়ের ভূমিকা ভাগ করে দেখানোর মতো কিছুই নেই এবং দুজনেই সমান ভাবে যার যার দায়িত্ব ভাগ করে নেন। ফলে মা এবং বাবা দুজনেই একটি শিশুর বেড়ে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: