gorbhabosthae-apnar-swamir-apnar-pashe-thakar-7ti-karon-pregnancy-rellationships-bangla

 

১. বিশেষ অনুভূতির জন্য বন্ধু প্রয়োজন

গর্ভাবস্তায় হরমোনের মাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় ফলে মহিলাদের মানসিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আপনি শুধু মেঝের উপর মোজা জোড়া ফেলে রেখেছেন, এমন কোনো সাধারণ ব্যাপার নিয়ে তিনি এক মুহূর্তে স্বাভাবিক এবং অন্য মুহূর্তে রেগে ক্ষিপ্ত হয়ে গেছেন। এই সময়ে আপনাকে আপনার স্ত্রীর মনের অবস্থা বুজতে হবে। এক সাথে সব কাজ করুন এবং ওনার সাথে কথা বলুন, কারণ কথা অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান করে। এমনকি ছোট ছোট জিনিসগুলি সম্পর্কে কথা বলার ফলে সারাদিন মন শান্ত এবং আনন্দিত থাকবে।

২.শারীরিক সমর্থন

গর্ভাবস্তায় শরীর প্রবল ব্যথা এবং যন্ত্রণা অনুভব হয়। মালিশের দ্বারা তা নিবারণ করা যেতে পারে। স্বামীর উচিত এই সময়ে কোনো ভারী কাজ তাকে করতে না দেওয়া। কিন্তু কোনো কাজ না করাও ঠিক নয়, তবে ভারী কোনো কাজ তাঁর শরীরের ক্ষতি করবে। তিঁনি তার স্বাভাবিক কাজগুলি করতে পারেন, যেমন রান্না করা, পরিষ্কার করা ইত্যাদি। মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট রুচির গন্ধ তাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে এবং এটি স্বামী যদি বুঝতে পারে তবে তিনি রান্নাঘর ছাড়াও চারপাশের কাজ করে তবে এটি চমৎকার হবে। এমন ছোট ছোট কাজগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৩.কারুর ওপর নির্ভরশীল

তিনি মানসিক এবং শারীরিক ভাবে কাউকে সবসময় কাছে পেতে চান। পরামর্শ নিতে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে, ডাক্তারের সাথে কথা বলতে, তার সাথে কথা বলতে ও তার উদ্বেগ ভাগাভাগি করতে এই সব জন্য তিনি কারুর ওপর নির্ভরশীল হতে চান। গর্ভস্থার প্রথম দিন থেকে একটি শিশু জীবনের পরিবর্তন ঘটায়। মাতৃত্বের স্বাদ ধীরে ধীরে গ্রহণ করার সাথে তাঁর কাউকে প্রয়োজন এবং তাঁকে ওনার সাথে থাকতে হবে।

৪. একটি সুস্থ গর্ভাবস্থার জন্যে

একটি মহিলা গর্ভাবস্থার সময় যত সুস্থ থাকবে, ততই সে একটি সুস্থ শিশু জন্ম দেওয়ার প্রবণতা রাখে। এই কথাটি মাথায় রেখে একটি স্বামীর মূল কর্তব্য হলো গর্ভাবস্থার সময় তার স্ত্রী এর দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা ও তার প্রত্যেকটি ছোট বড় প্রয়োজনের দিকে ধ্যান দেওয়া।

৫. একটি স্বাস্থবান শিশুর জন্মের জন্যে

একটি শিশু স্বাস্থকর হয়ে জন্ম নেবে কিনা, তা পুরোপুরি নির্ভর করে তার মায়ের গর্ভাবস্থার সময় স্বাস্থ্যের ওপর। একটি গর্ভবতী মহিলা যদি সঠিক মানসিক ও শারীরিক যত্ন না পায় তবে একটি শিশুর ও স্বাভাবিক ও স্বাস্থকর দেহ বা মন না হওয়ার ই সম্ভাবনা থাকে। প্রত্যেকটি স্বামীকে লক্ষ রাখতে হবে যে তার স্ত্রী একটি সুস্থ শিশুকে জন্ম দিতে চায় এবং এর জন্যে তাকে সব রকম ভাবে সাহায্য করা ও তার দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

৬. ৯মাস গর্ভাবস্থা সহজ কথা নয়

একটি শিশুকে প্রায় ৯ মাস ধরে গর্ভে ধারণ করে রাখতে হয়। একটি প্রাণকে ৯মাস নিজের শরীরে রাখা শুধুমাত্র সময়সাপেক্ষই নয়, যথেষ্ট কঠিন ও বিপজ্জনক ও। এই সময় মহিলাটিকে নানা রকম মানসিক উদ্বেগের মধ্যে দিয়েও যেতে হয়। কাজেই একজন দায়িত্ববান স্বামীর কর্তব্য হলো এই ধরণের মুহূর্ত গুলি তে তার স্ত্রীয়ের বিশেষ যত্ন করা ও মানসিক ভাবে তার পাশে থাকা।

৭. সন্তানটি দুজনের, শুধুমাত্র এক মায়ের নয়

একজন স্বামীকে মনে রাখতে হবে যে শিশুকে শুধুমাত্র তার স্ত্রী নিজের গর্ভে ধারণ করছে মানে শুধুমাত্র স্ত্রী-এরই দায়িত্ব না, সন্তানটি দুজনেরই। তাই স্বামীর কর্তব্য হল প্রতিটা পদক্ষেপে তার স্ত্রীর পাশে থাকা এবং সব রকম ভাবে তাকে সুরক্ষিত রাখা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: