12-mass-boyos-obodhi-sisur-bridhi-o-bikas

১। শুন্য(০) থেকে ৪ মাস

আপনার শিশুর জন্মের পর তার প্রথম মাসের বিকাশ সীমাবদ্ধ্ব থাকে প্রধানত সঠিক স্তন্যপান এবং ঘুমের রূটিনের মধ্যে। এই সময়ে শিশু নড়াচড়া করতে শেখে যা অল্প হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ যেমন আপনার মুখের দিকা তাকানো, হাসা, আপনার আঙ্গুল ধরতে শেখা। তারা গোলমাল শুনলে বা আচমকা জোরে আওয়াজ শুনলে কেঁদে ওঠে। উপুড় হয়ে শুয়ে তারা মাথাটা উঁচু করে তুলে রাখতে শেখে। এই গুলি দেখে বোঝা যায় যে আপনার শিশুর অভ্যন্তরীণ বিকাশ হচ্ছে এবং সে স্বাস্থ্যবান শিশু হয়ে উঠছে। এই চলনগুলি শিশুদের প্রতিক্রিয়া যা তাদেরকে বৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

২। ৪ থেকে ৮ মাস

শিশুরা তাদের প্রথম্ বছরের পরবর্তী পর্যায়ে অর্থপূর্ণ মুখভঙ্গি (অভিব্যক্তি) করতে শিখবে। আপনার শিশুর মানসিক বিকাশের এটি সবচেয়ে স্নেহময় পর্যায়। আপনার শিশুর মনোগ্রাহী বা হৃদয়গ্রাহী অভিব্যক্তি আপনাকে তার অনুভূতির সন্ধান দেবে। পিঠে ভর দিয়ে শুয়ে শিশু তার নিজের পা নিয়ে খেলতে, প্রধানত পা ছুড়তে শিখবে। কোন কিছুর সাহায্য না নিয়েও সে নিজে নিজে তার মাথা উঁচু করে ধরতে শিখবে। সে সময়ে সময়ে বিছানায় গড়াগড়ি দিয়ে মজা পাবে। তার জন্য মেঝেতে বিছানা করে দিন যাতে সে গড়াগড়ি করে খেলতে পারে এবং আচমকা তার খাট থেকে পড়ে যাওয়ার ভয়ও থাকে না।

খেলনা বা অন্য আকর্ষনীয় রঙিন জিনিস চেপে ধরা বা তার দিকে এগিয়ে যাওয়া আপনার শিশুর মানসিক বৃদ্ধির পরিচায়ক। ক্ষতিকারক বা হানিকারক জিনিস তাদের আওতার বাইরে রাখুন্ যেহেতু হাতে পেলেই তারা সেগুলো মুখে দেবে। ঘরের চারিদিকে হামাগুড়ি দেওয়া আপনার শিশুর সঠিক ভাবে বেড়ে ওঠার লক্ষণ, যা এর পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হবে।

৩। ৮ থেকে ১২ মাস

আপনি তৈরি থাকুন পরের সময়ের জন্য যখন আপনার শিশু হামাগুড়ি দেওয়া শেখার মত বিকাশের পর্যায়ে এসে পৌঁছাচ্ছে। এখন আপনার শিশুকে শক্ত খাবার দিতে শুরু করতে পারেন। তার খাদ্য পরিবর্তনের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবুন, এবং লক্ষ্য রাখুন যাতে খাদ্য তালিকায় এমন কোন খাবার না থাকে যা গলায় আটকে যেতে পারে। এই সময় আপনার শিশুকে দেখলে মনে হবে যে, সে হাঁটতে আগ্রহী এবং সে আপনার সাহায্য নিয়ে দাঁড়াতে শিখে যাবে। তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে এমন করে তার সঙ্গে কথা বললে সে উত্তর দেওয়ার ঢঙ্গে নিজের গলা থেকে সাধারণ আওয়াজ ফিরিয়ে দেবে। এটি এই সময়ের মধ্যে তার সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিকাশ। আপনার শিশুর সহজপাচ্য খাবার খেতে শেখা তার বিকাশের সবথেকে মনোগ্রাহী অধ্যায়। শিশুরা এইসময় খাবারের স্বাদ নিতে এবং খবারের পছন্দ অপছন্দের বোধ তৈরি করে নিজেদের দেখভাল করতে শেখে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: