apnar-shishu-gas-ba-omlotae-bhugche-kibhabe-apni-ta-bujhben-ebong-samlaben-bangla

 

গ্যাসের কিছু খুব সাধারণ লক্ষণ থাকে যা আপনি আপনার শিশুর মধ্যে দেখে থাকবেন।

১. শিশুর পেট গুড়গুড় করা বা বাতকর্ম হওয়া বা ক্রমশ ঢেকুর তোলা।

২. আপনি আপনার শিশুর পেটে হাত দিলে বুঝবেন কেমন শক্ত ও জমাট মত হয়ে রয়েছে।

৩. আপনার বাচ্চার অস্বস্তি, বা পীড়ার কারণে অনবরত কাঁদতে থাকবে এবং সেই কান্নার ধরণ স্বাভাবিকের চেয়ে আরো বেশি অন্যরকম হবে।

গ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়ার মূল ব্যবস্থা হল প্রতিরোধ ব্যবস্থা। আপনার শিশুর যাতে গ্যাসের যন্ত্রনা সহ্য করতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য, প্রতিটি খাওয়ার পরে আপনার বাচ্চার বাষ্পকে ঢেকুরের মাধ্যমে বের করার জন্য সর্বোত্তম চেষ্টা করুন। এই কাজ করার জন্য, আপনার খাওয়ানো সম্পন্ন হওয়ার পরে আলতো করে বাচ্চার পিঠে হাত দিয়ে ঘষতে এবং মারতে থাকুন। আরেকটি বিষয় যা আপনি করতে পারেন তা হল নিশ্চিত করা যে আপনার বাচ্চাকে খাওয়ানোর মুহূর্তে (স্তন্যপান হোক কি এমনি খায়ানো) খেয়াল রাখুন এমন আকারে শিশুকে ধরে রাখতে যাতে অতিরিক্ত বাযু প্রবেশ করতে বাধা পায়। তবে এই আকার নির্ণয় করার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন কারণ ভুল আকার হলে শিশুর অন্যরকম ভাবে ক্ষতি হতে পারে। দুধ খাওয়ার সময় আপনার বাচ্চাকে হালকা করে সোজা বসিয়ে নেবেন যাতে সেই দুধ কোনোভাবেই ভুল প্রণালীতে না যায়। এছাড়াও, খুব দ্রুত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

“কিন্তু আমি সেই ভুলগুলিই করে গেছি, তাহলে আমি কি করবো? আমার শিশু কি তাহলে গ্যাসের রোগেই ভুগবে?”

যদি এই প্রশ্নটাই আপনি এখন নিজেকে জিজ্ঞাসা করছেন, তবে আমরা আপনাকে কিছু প্রস্তাব দিতে পারি। শুরুতে, আপনি আপনার শিশুকে আলতো মালিশ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন অর্থাৎ আস্তে আস্তে আপনার শিশুর পেট ও পিঠে ঘষা এবং ম্যাসাজ। এটি আপনার বাচ্চার দেহ থেকে গ্যাস সরানো এবং যে অস্বুস্তিকর অনুভূতি অনুভব করছে তার থেকে আরাম পেতে দেবে। অন্য জিনিস যা বেশ সহায়ক বলে প্রমাণিত হয়েছে তা হল সাইক্লিংয়ের মতো করে আপনার বাচ্চার পা দুটি ধরে ঘোরানো। এটি অন্ত্রের গতি বাড়াতে সাহায্য করে যা গ্যাস মুক্ত হতে সাহায্য করে।

আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার পরে আপনি আরো দুটি চেষ্টা অবলম্বন করতে পারেন তা হল; প্রথমত, আপনি বিশেষ কিছু গ্যাস সংক্রান্ত ড্রপ বা তেল ব্যবহার করতে পারেন যা আপনার শুশুর অন্ত্রের অস্বস্তি দূর করতে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ত, আপনি কিছু বিশেষ ঔষধ বা সিরাপ ব্যবহার করতে পারেন যা গ্যাসে সাহায্য করে। যদি এর পরেও দেখেন শিশুর অস্বস্তি কমছে না, তবে আপনার শিশুকে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: