swami-theke-baba-howar-por-10ti-lokkhonio-poriborton

 

১. স্বামী আগের তুলনায় আরো বেশি যোগ্য হয়ে ওঠে

বাবা হওয়া আপনার স্বামীর কাছে মটেও কোন ছোট ব্যাপার নয়, এবং যখনি ওনার মুনে সামনে তাঁর ছোট্ট শিশুটির মুখ ভেসে ওঠে উনি আরো বেশি দায়িত্ববান হয়ে ওঠেন এটাই ভেবে যে কতটা সর্বোত্তম উপায় তিনি তার যত্ন নিতে পারবেন তার খাওয়া, পড়া, চিকিৎসা,ইত্যাদি বিষয় এবং আর্থিকভাবে ক্ষমতা দিতে পারবেন ও পরিবারকে সুরক্ষা দিতে পারবেন।

২. ভবিষ্যতের জন্যে সঞ্চয় করা

যেই মাত্রই উনি বাবা হয়ে যাচ্ছেন, তার পর থেকেই তিনি আসতে আসতে আগের তুলনায় আরো বেশি সচেতন হয়ে গিয়ে ভবিষ্যতের জন্যে সঞ্চয় করতে শুরু করেন। বেশিরভাগ পুরুষমানুষরাই এটা মনে করেন যে একটি সদস্য সংসারে বেড়ে যাওয়া মানেই আর্থিক খরচ ও বেড়ে যাওয়া যার ফলে তিনি আগের তুলনায় অনেক বুঝে শুনে খরচ করবেন।

৩. স্ত্রীর প্রতি সম্মান বেড়ে যায়

আপনার স্বামী যখন থেকে বুঝতে পারে যে আপনি কতটা যন্ত্রনা ও যত্ন করে আপনাদের সন্তানকে পৃথিবীতে এনেছেন তার পর থেকেই ওনার আপনার প্রতি সম্মান ও ভালবাসা আর অনেক পরিমানে বেড়ে যায়। ওনার জীবনের এখন একমাত্র বড় উদ্দেশ্য হল আপনাকে ও আপনাদের সন্তানকে ভাল রাখা।

৪. ঘরে আরো বেশি সময় কাটানো

বেশিরভাগ পুরুষমানুষরাই স্বীকার করেছেন যে তাঁরা যখন কোন অফিসের কাজে বাড়ির বাইরে যান বা থাকতে বাধ্য হন, সেটি মোটেও তাদের ভাল লাগেনা কারণ তাঁরা স্ত্রী ও সন্তান ছাড়া একাকিত্ব বোধ করেন। তাই তাঁরা চেষ্টা করেন দিনের বেশিরভাগ মুহূর্তগুলি স্ত্রী ও সন্তানের সাথে কাটাতে।

৫. সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন

আপনি ভাবতেও অবাক হবেন যেই স্বামী আগে সংসারের কোনো কাজই করতে পারতেননা, উনি আসতে আসতে অনেক এমন কাজ শিশুর জন্যে করতে পারছেন যেমন ডাইপার বদলানো, শিশুর জন্যে দুধ গরম করা, বোতলে দুধ ভোরে রাখা, শিশুকে ঘুম পাড়ানো, ইত্যাদি। এমনকি উনি আপনাকেও বিশ্রাম নিতে বলে নিজে ছোটোখাটো কাজে আপনার ভূমিকা নিতে পারেন।

৬. নতুন বন্ধুদের দল তৈরী হয়

বাবা হওয়ার পর তিনি অনেক এমন নতুন করে বাবা হওয়া পুরুষদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন এবং আপনাকেও সামাজিক ভাবে নতুন বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করার দরজা দেখিয়ে দেবেন। এক কথায় আপনি তাঁর বন্ধু দলের মধ্যে এক আমল পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন যেটি আপনার খুব ভাল লাগবে।

৭. সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ দুটোরই প্রয়োজন বুঝতে পারেন

যেই মাত্রই উনি বাবা হয়ে যান উনি বুঝতে পারেন স্ত্রী ও সন্তানের জন্যে সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ দুটোই কতটা প্রয়োজনীয়। তিনি চেষ্টা করেন ঘরের আসে পাশে যেন কোনো ধুলো ময়লা না থাকে, মেঝে পিছলা না থাকে, কোনো বিপজ্জনক পদার্থ না থাকে, ইত্যাদি এবং এমন জিনিস দিয়ে তিনি তাঁর ঘর ভরিয়ে রাখতে চান যা তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের সুরক্ষা ও স্বাছন্দের কারণ হবে।

৮. একসাথে অভিভাবকত্ব করা

উনি এখন কোন বিষয়ই একা মতামত নেবেননা, সে সংসারের বিষয়ই হোক কি সন্তানের বিষয়। উনি অভিভাবকত্বকে উভয়ের মতামতই চালাতে পছন্দ করবেন কারণ উনি মনে মনে বিশ্বাস করেন যে আপনাদের দুজনের ভালোবাসা ফালি হল এই ছোট্ট শিশুটি যার ভাল মন্দ আপনারা দুজন মিলেই সব চাইতে ভাল বুঝবেন।

৯. সন্তানের সাথে খেলাধুলা করা

আপনার স্বামীটি আগে যতই গম্ভীর থেকে থাকুক না কেন, শিশু জন্মের পর উনি আর নিজেকে তার সাথে সব রকম ভাবে জড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে পারবেননা। বিশেষ করে উনি রীতিমতো তার সাথে খেলাধুলা করবেন ও তাকে খোশমেজাজে রাখার চেষ্টা করবেন এবং যত দিন যাবে ও সন্তান বড় হবে, এটা আরো বাড়বে।

১০. শিশুর সাথে কথোপকথন

শুরুতে যেই স্বামীটিকে আপনি দেখতেন একটু উদাসীন, তিনি আসতে আসতে তাঁর সন্তানের সাথে নানা ধরণের কথোপকথনে জড়িয়ে পড়বেন। এটি অভিভাবকত্বের সবচেয়ে শুভ লক্ষণ কারণ কথা বললেই সন্তান ও বাবা আরো কাছে আসতে শুরু করে। ফলে, যেই মুহূর্তে বাবা তাঁর কাজের জগৎ থেকে বাড়ি ফায়ার আসে, উভয় বাবা ও শিশুর মুখে খুশির ঔজ্জল্ল্য দেখা দেয় যা ভাবতেও খুব ভাল লাগে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: