c-section-prosob-poddhti-niye-mitthe-dharona-o-asol-sotyo-bangla

১। আপনি ইচ্ছে হলেই সি-সেকশন পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন

প্রথমত, খুব অভিজ্ঞ কোন ডাক্তারের মতামত নিন, যিনি বাচ্চার স্বাভাবিক জন্মদানকে সবচেয়ে উপযোগী মনে করেন। অস্ত্রোপচারের কারণ যেন পুরোপুরি ন্যায়সঙ্গত হয়। প্রসব যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য বা সুবিধামত সময়ে জন্মদান করার জন্য যেন এই পদ্ধতির সাহায্য না নেওয়া হয়। যেমন একটি “ব্রিচ” অবস্থার ক্ষেত্রে সিজারিয়ান (সি-সেকশন) পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। মনে রাখবেন, স্বাভাবিক জন্মদান আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।

২। একবার সি-সেকশন করালে প্রতিবারই সি-সেকশান করাতে হবে

এটি হল সবচেয়ে প্রচলিত গুজবগুলির মধ্যে একটি। কৌতূহলের বশে আমি এই বিষয়ে কিছু গবেষণা করেছিলাম, কিন্তু এমন কোন তত্ত্ব খুঁজে পাইনি যা এটা প্রমাণ করে। দেখা গেছে যে অনেক মহিলাই সি-সেকশনের পরেও স্বাভাবিক ভাবে সুস্থ বাচ্চার জন্ম দিয়েছেন।

৩। সি-সেকশন পদ্ধতিটি সুরক্ষিত নয়

এটা খুব জরুরী যে এই পদ্ধতির আগে মায়েরা শান্ত ভাবে এর জন্য প্রস্তুতি নেন, কারণ এতে রক্তক্ষরণ, কিডনি ফেলিয়োর, সংক্রমণ, হার্ট অ্যাটাক, ইত্যাদির সম্ভাবনা সাধারন জন্ম পদ্ধতির চেয়ে বেশী। আপনার ডাক্তার ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন সাহস ও উৎসাহ পাওয়ার জন্য, যাতে আপনি অপারেশানের আগে হাসিখুশি থাকতে পারেন।

৪। অন্য কারো মতামত জরুরী নয়

আপনি যদি সি-সেকশনের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত বোধ করেন, তবে দ্বিতীয় কোন চিকিৎসকের মতামত নিন। যেহেতু আপনাকে পুরো পদ্ধতিটির জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে, কোন রকম ভয় বা শঙ্কাকে ঝেড়ে ফেলা দরকার। নিজের মনকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করার জন্য আরেকজন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন ও সি-সেনশনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে নিন।

৫। সি-সেকশন হওয়া মায়েরা স্তন্যপান করাতে পারেন না

আবার একটি ভুল ধারণা! এটা ঠিক যে মাঝে মাঝে সি-সেকশনের পরে অবিলম্বে মাতৃদুগ্ধের নিঃসারণ ঘটে না, কিন্তু তাঁর মানে এই নয় যে আপনি স্তন্যপান করাতেই পারবেন না। এই ক্ষেত্রে মাকে “সাকশন” নামক একটি ছোট পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় যাতে স্তন্যদুগ্ধ নিঃসৃত হয়। এটি একটু বেদনাদায়ক হতে পারে, কিন্তু স্তন্যপানে সত্যিই সাহায্য করে। তাই মায়েরা চিন্তা করবেন না।

৬। সি-সেকশনের ক্ষত সারতে অনেক সময় নেয়

এটি পুরোপুরি মিথ্যে না হলেও অব্যর্থ সত্যিও নয়। একজন নতুন মাকে যথেষ্ট যত্নে রাখা হয় এবং প্রয়োজনীয় পথ্য, উপদেশ, ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হয় যাতে সন্তানজন্মের পরের সময়টা স্বচ্ছন্দে কাটে।

৭। সি-সেকশন হওয়া মায়েদের খাদ্যাভ্যাসের বিধিনিষেধ থাকে

না, এরকম কিছুই থাকে না! শুধু খেয়াল রাখতে হবে যে খাবার যেন স্বাস্থ্যবান ও পুষ্টিকর হয়। আর অধিকভোজন চলবে না, কারণ আপনি যা খাবেন, আপনার শিশুর শরীরেও তাই যাবে। কাজেই, সাবধানে বেছে খাবেন।

অবশেষে, নতুন মায়েরা মনে রাখবেন, আপনার যেরকম হওয়ার ইচ্ছা, অবশেষে আপনি সেরকমই হবেন। যখন যে পরিস্থিতি আসবে তাঁর মোকাবিলা করুন, আর স্বাভাবিকভাবে জন্ম না দিতে পারলেও চিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন যে আপনি একটা স্নেহময় অনুভূতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন – সেটার আনন্দ নিন। আশা করি আপনি পাবেন এক সুন্দর মাতৃত্বের অনুভূতি ও এক স্মরণীয় অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: