bhulben-na-gorbhabosthay-ei-proyojonio-check-up-korate

গর্ভাবস্থার সময় একটি গর্ভবতি মহিলার জন্যে সঠিক সময় সঠিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখা ও পরামর্শ নেওয়া তার নিজের ও তার হবু সন্তান, উভয়ের জন্যেই প্রয়োজনীয়। এখানে আমরা সমস্ত স্বাস্থ পরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য জানাচ্ছি যা আপনার গর্ভাবস্থার সময়ের জন্যে ভাল হবে।

১. গর্ভধারণের আগের পরীক্ষা: জেনেটিক স্ক্রীনিং

কিছু রোগ বা জীবাণু সংক্রান্ত লক্ষণ সম্পর্কে অনেক বাবা মায়েরাই জানেননা, কিন্তু এই সমস্ত কিছু জানার উপায় আছে একটি নির্ধারিত জেনেটিক পরীক্ষা দ্বারা। সেই কারণেই, একজন দম্পতির উচিত গর্ভাবস্থার পূর্বে এই পরীক্ষা করানো। এর মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের মধ্যে থাকা কিছু পূর্বপুরুষ থেকে বয়ে আনা সমস্যা সম্পর্কেও সতর্ক হতে পারবেন। অতিরিক্ত রক্তপাত, থেলাসেমিয়া, কোষ সংক্রান্ত সমস্যা, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, ইত্যাদির মত সমস্ত সমস্যা পড়বে।

২. গর্ভাবস্থার প্রথম ৩মাসের মধ্যে করা পরীক্ষা

ক. আর এইচ বা রেসাস ফ্যাক্টর পরীক্ষা

এই পরীক্ষায়, আপনার রক্ত উৎপন্ন করার কোষগুলির ওপর প্রান্তে এটি নির্দিষ্ট পদার্থ যার নাম রেসাস ফ্যাক্টর সেটি নিরীক্ষণ করা হয়। যে সকল মহিলাদের মধ্যে এটি পাওয়া যায় তাদের বলা হয় আর এইচ পসিটিভ এবং না পথ গেলে বলা হয় আর এইচ নেগেটিভ।

আপনি যদি আর এইচ নেগেটিভ এবং আপনার স্বামী যদি আর এইচ পসিটিভ হয়ে থাকেন, তাহলে এটি আপনার গর্ভে থাকা শিশুর জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে কারণ আপনার রক্ত আপনার শিশুর কোষের সাথে মিলিত হতে পারেনা। তোমার অনাক্রম্যতা কোষ শিশুর বিরোধী কিছু এন্টিবডি তৈরী করে যার ফলে গর্ভপাত হতে পারে। এই সমস্যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় হেমোলাইটিক এনিমিয়া বলা হয়। আপনি এবং আপনার বাছা হয়তো প্রথম গর্ভাবস্থায় বেঁচে যেতে পারেন, কিন্তু দ্বিতীয়বার গর্ভাবস্থা আপনার এবং আপনার শিশুর জীবনে ক্ষতিকারক হতে পারে।

হিমোলাইটিক এনিমিয়া রোধ করার জন্যে আপনাকে গর্ভাবস্থার ২৮টম সপ্তাহে একটি টিকাৰণ নিতে হবে এবং সেই টিকারণই আবার আপনাকে শিশু জন্মানোর ৭২ ঘন্টা পর নিতে হবে। এটি করার ফলে আপনার শিশুর আর এইচ ফ্যাক্টর পসিটিভ হতে পারে এবং শিশু ও আপনি ক্ষতি থেকে মুক্ত হতে পারেন।

খ. যৌন সংক্রান্ত রজার পরীক্ষা

এই পরীক্ষার দ্বারা যৌন বাহিত রোগ যেমন এইচ এই ভি/ এইডস, সিফিলিস, হেপাটাইটিস বি এবং সি, হার্পিস, গনোরিয়া এবং ক্লামাইডিয়া নিরীক্ষণ করা হয়। এইভাবে শিশু মায়ের গর্ভে থাকাকালীন তাকে এই রোগ গুলি থেকে বাঁচিয়ে রাখা যেতে পারে। এমনকি, মৃতজন্ম বা শিশুর গর্ভ থেকে পরে যাওয়াকেও এড়ানো যেতে পারে। এর জন্যে চিকিৎসক আপনাকে সঠিক এন্টিবায়োটিক ওষুধ প্রদান করবেন যা আপনার শিশুকে ক্ষতি করবেনা।

৩. ৪র্থ সপ্তাহের পরীক্ষা

এই সময় মায়ের রুবেলা ভাইরাস এবং হামের বিরুদ্ধে অনাক্রমতা শক্ত পরীক্ষা করা হবে। রুবেলা থেকে গর্ভাবস্থা রক্ষা করতে টিকাকরুন দেওয়া উচিত। এর দ্বারা শিশু একাধিক জন্ম সমস্যা থেকে মুক্তি পায়, তারা দেখতে ও শুনতে পাচ্ছে কিনা, তা জানা যায় এবং তার হৃদয়ে গর্ত আছে কিনা তাও পরীক্ষা করা যায়।

৪. ১০ থেকে ১২তম সপ্তাহের পরীক্ষা

এই পরীক্ষা ৩৫ বছর বয়সী বা উর্ধ নারীদের জন্য করা হয় যারা মা হওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরীক্ষাকে সি ভি এস পরীক্ষা বলা হয়। এই পরীক্ষায়, মহিলার গর্ভ থেকে অ্যামনিয়োটিক তরলকে একটি সুশৃঙ্খল সুচ সাহায্যে বের করা হয় এবং তার সাহায্যে, শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিক ক্রোমোসোম সনাক্ত করা হয়।

৫. ১২তম সপ্তাহের পরীক্ষা

এই সময় শিশুটির অলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করা হয়। এর থেকে শিশুটির হৃদয়ের শব্দ বা শরীরের সাধারণ বিকাশ বোঝা যায়। এর সঙ্গে শিশুর গর্ভে থাকাকালীন অবস্থানকেও সনাক্ত করা হয়।

৬. ১৬তম সপ্তাহের পরীক্ষা: এমনিওসেন্টেসিস

এই পরীক্ষায় মায়ের কোষ থেকে নিখুঁত রক্ত নেওয়া হয়। বেশিরভাগ আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানে শিশুটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনিওসেন্টেসিস থেকে শিশুর অন্তর্নিহিত সমস্যা তার জন্মগ্রহণ করার আগেই জানা যায়, যেমন মস্তিষ্কের ক্ষুদ্রাকৃতি, প্রতিবন্ধকতা, হৃদয় চ্ছেদ বা গর্ভপাত।

৭. ২০তম সপ্তাহের পরীক্ষা: এ এফ পি পরীক্ষা

আলফা-ফুফ্রোটিন (এএফপি) মা’র শারীরিক রক্ত, অ্যামনিয়োটিক তরল এবং শিশুর দেহে পাওয়া যায়। এই পরীক্ষায় মায়ের দেহ থেকে রক্ত ​​বের করা হয় যার দ্বারা মানসিক সমস্যা এবং শিশুটির শিরদাঁড়ার হাড়টির মধ্যে রোগের কোনো আশঙ্কা বুঝতে সাহায্য করে।

৮. ২৮তম সপ্তাহের পরীক্ষা

কিছু কিছু গর্ভধারণের সময় রক্তে চিনি স্তর বৃদ্ধি পায়, যা গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস বলা হয়! এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। অতএব এই সময় মায়ের দেহে গ্লুকোজ মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষা শরীরের মধ্যে মূত্রাশয়ের সংক্রমণ এবং জলের অভাবের ফলে যেসব রোগ হয় তা বুঝতে সাহায্য করে। গর্ভবতী ডায়াবেটিস শিশুর জন্মের পরে নিরাময় করা যায়।

৯. ৩৬তম সপ্তাহের পরীক্ষা: গ্রূপ বি স্ট্রেপটোকক্কাস পরীক্ষা

এই পরীক্ষা মহিলাদের মধ্যে কোনো গুরুতর জীবাণু সংক্রমণ সনাক্ত করার জন্যে করা হয়। এর জন্যে মহিলাটির মধ্যে এন্টিবায়োটিক প্রদান করে চিকিত্সা করা হয়। এই পরীক্ষাগুলি তাদের জন্যে জরুরি যে জন্ম দেওয়ার ১৮ ঘণ্টা আগে জল প্রসব করে ফেলে, যাদের গর্ভাবস্থায় জ্বর হয় অথবা যারা প্রথমবারের মতো অসুস্থ শিশুকে জন্ম দিয়েছে।

১০. উচ্চ রক্তচাপের পরীক্ষা: প্রিক্লাম্পসিয়া

প্রিম্প্ল্যাম্পিয়াতে, মহিলার রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। এছাড়াও এতে রক্ত ​​ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়। এটি প্রস্রাবে পাওয়া রক্ত ​​এবং প্রোটিন কম প্প্লাটিলেট দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এটি ভারসাম্য করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, নইলে ডেলিভারির সময় হৃদয়ের অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে যার ফলে শ্বাস ফেলা কঠিন হতে পারে।

এই পোস্টটি আরও বেশি নারীর সাথে শেয়ার করুন এবং তাদের জীবন বাঁচান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: