jene-nin-kemon-hobe-apnar-shishur-mukh-baktitto-o-akar-mayer-moto-na-babar-moto-bangla

জিন কিভাবে কাজ করে?

যখন আপনি আপনার সন্তানের আগমনের জন্য অপেক্ষা করেন তখন আপনি এটা নিশ্চিতভাবেই ভাববেন যে সে কেমন দেখতে হবে? সে কি তার বাবার মত লম্বা হবে? নাকি আপনার মত তার চুল হবে? নাকি তার দাদীর মত হতে পারে, নাকি দাদুর মত?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে মানুষের মধ্যে ৪৬ ক্রোমোজোমের মধ্যে সব মিলিয়ে ৬০০০০ থেকে ১০০০০০ জিন আছে। একটি শিশু ২৩ টি ক্রোমোজোম মায়ের থেকে এবং ২৩টি ক্রোমজোম পিতা থেকে পায়। এর এক জোড়া থেকে ৬৪ ট্রিলিয়ন শিশু কি তৈরী হতে পারে? এখন আপনি বুঝতে পেরেছে যে এটা কতটা কঠিন যে শিশুটি কি রকম দেখতে হবে সেটা বুঝে ওঠা। কিন্তু তারপরেও আমরা এর সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাকে দিতে চাই।

শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে আসা গেছে যে শিশু কোন একজনের থেকে সমস্ত গুণগুলি গ্রহণ করে না। কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন আকার, ওজন, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি, পরিবেশের ওপরেও নির্ভরশীল।

১. চোখের রঙ

যদি কেবল একটি জিনের জোড়া চোখের রঙ নির্বাচন করার জন্য দায়ী হয় তবে চোখের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ৩টি রঙ হবে – কালো, বাদামী, এবং সম্ভবত সবুজ। কিন্তু এখনো অবধি মানুষের চোখে প্রচুর রঙ দেখা গেছে। তাই এটি এখনো কোনো শেষতম সিদ্ধান্ত নয়।

চোখের মনির রঙ মেলানিনের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। গাঢ় রঙের চোখে বেশি পরিমাণ মেলেলিন পাওয়া যায়। নীল রঙের চোখে এই পরিমাণ খুব কম থাকে এবং সবুজ, হেজল ইত্যাদি রঙের চোখে আলাদা আলাদা মাত্ত্রা হয়। এটা তার ওপর নির্ভর করে যে শিশু কি এবং কতটা মেলেলিনের জিন মা বা বাবার থেকে পাচ্ছে।

তাই কালো বা বাদামি রঙের চোখের দম্পতির বাচ্চাদের চোখ রঙে নীল হতেই পারে।

২. মুখ এবং শরীর

কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন গালে টোল পড়া, মুখের আকার, ভুরু ইত্যাদি এগুলি প্রায়ই শিশুরা জিন থেকে পায়ে থাকে। এ ছাড়াও কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন হাতের আকার, আঙ্গুল, চুল ইত্যাদি শিশুর মায়ের সাথে মিলিত হয়।

আঙুলের ছাপের প্যাটার্ন এভাবেই দেখা যায় যে এটি শতবর্ষ থেকে চলে আসছে। এমনকি দাঁতের আকারও এসব লক্ষণ দেখায়।

যদি আপনি জানতে চান যে আপনার শিশুটির মুখ কেমন হতে পারে তাহলে আপনি আপনার পরিবারের পূর্বপুরুষের ছবিগুলি নিন এবং দেখুন যে তাতে কি ধরণের বৈশিষ্ট্যগুলি আছে যা পরবর্তীতে আস্তে পারে? যেমন – গোল মুখ, বা লম্বা চুল ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলি মেনে চলতে হয় এবং এর মধ্যে আপনার শিশুটির চেহারার সম্ভাবনা অত্যধিক হয়।

৩. আকার ও ওজন

ধারণার জন্য প্রায়ই এই ফর্মুলাটি কাজ করে থাকে শিশুর হাইট মাপার জন্যে।

মা এবং বাবার উচ্চতার গড় করে যদি আপনি ছেলে আশা করেন তবে তার চেয়ে আর ২ ইঞ্চি বাড়িয়ে দিন এবং যদি আপনি মেয়ে আশা করেন তাহলে আপনি ২ইঞ্চি কমিয়ে দিন।সেই জন্যে আপনার হাইট ৫ফিট ২ ইঞ্চি এবং আপনার পিতার ৫ ফিট ৮ ইঞ্চি; তাই তার গড় ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি হবে যেমন আপনার ছেলের এর হাইট ৫ ফিট ৮ ইঞ্চি হতে হবে এবং আপনার মেয়েটির ৫ ফিট ৪ ইঞ্চি। মনে রাখবেন, এটা শুধু একটি অনুমান। বেশ কিছু জায়গায় শিশুর হাইট মা-বাবা উভয়ের থেকে উচ্চতর হয়।

আরো কিছু জিনিস যা শিশুর হাইটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে তা হল খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টি। যদি শিশুটির হাইট ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি হওয়া উচিত হয়ে থাকে কিন্তু তাকে যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টি না দেওয়া হয়, তবে তার হাইট কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন যে সম্পূর্ণ পুষ্টি পেলে অনুমানিত উচ্চতা থেকে আরও বেশি হাইট পাওয়া যাবে।

শিশুটির ওজনের ব্যাপারে অসম্ভব। যদি শিশুটির মা বাবা উভয়ই মোটা হয় তবে শিশুটিরও বেশি ওজন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

৪. চুলের রঙ

যদি মা এবং বাবা দুজনের চুলের রঙ ই ঘন হয়ে থাকে তবে জিন অনুযায়ী শিশুও ঘন রঙের চুল পাবে কিন্তু যদি আপনার এবং স্বামীর চুলের রং আলাদা হয় তবে শিশুটির চুলের রং এর মিশ্রণ হতে পারে।

তবে, এখানে একটি অত্যন্ত উদ্দীপক বিষয় আছে যে জুরুরী না যে শিশুর চুলের রঙ মা বাবার ওপরেই নির্ভর করে। এটি পূর্বপুরুষের উপরও নির্ভর করে। যদি আপনার পূর্বপুরুষের কারুর চুলের রঙ সোনালী হয়ে থাকে অথচ আপনি তা জানেননা, তবুও আপনার শিশুর চুলের রং সনাল্লি হতেই পারে।

বৈশিষ্ট্য যাই হোক না কেন, লম্বা, মোটা, রোগ, ফর্সা ইত্যাদি; আপনার শিশু সর্বদা আপনার প্রিয় হয়ে থাকবে, তাই নয় কি?

এই তথ্য অবশ্যই শেয়ার করুন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: