apnar-bachhar-koto-bochor-boyosh-howar-por-theke-take-barir-baire-ber-korte-paren-bangla

সদ্যোজাত শিশুর পরিচর্যা (যা ডাক্তারেরা করে থাকেন) এবং আপনার অভিভাকত্ব বা শিশুর দেখভাল শুরু করার উপর্যুপরি সময়ের মধ্যে এটি একটি অন্যতম বিতর্কিত প্রশ্ন। প্রশ্নটি বিতর্কিত এই অর্থে যে এটি কিছুটা উদ্দেশ্যহীন – এর এমন কোন সরাসরি উত্তর নেই যা সম্পূর্ণ সঠিক বলে দাবী করা যায়। ডাক্তারেরা এবং অভিজ্ঞ অভিভাবকেরা দুটি ভিন্ন মত পোষন করেন এবং দুটি মতের স্বপক্ষেই তাদের যুক্তি এবং নিজেদের বিশ্বাস রয়েছে। কিন্তু যদি আলাদাভাবে দেখা যায় তবে জানা যাবে যে যেটা আমরা নিজেরা বিশ্বাস করি সেটাই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর!

ডাক্তারদের একটি গোষ্ঠী বিশ্বাস করেন যে শিশুর বয়স ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ হওয়ার আগে তাদেরকে বাইরে বের করা উচিত নয় কেননা সেটা তাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। ভাবনাটি সত্যি এই দৃষ্টিভঙ্গী থেকে যা এই সময় বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা দুর্বল থাকে এবং তাদের রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনাও খুব বেশী থাকে(প্রাপ্তবয়স্কদের থেকেও বেশী)। এই রোগ সংক্রমণের উচ্চ মাত্রার কথা মাথায় রেখে শিশুর বয়স দুমাস হওয়ার আগে পর্যন্ত তাদের বাড়ির বাইরে নিয়ে না যাওয়াই যুক্তিযুক্ত। বাইরের হাওয়াতে সেই অর্থে কোন রোগের ঝুঁকি নেই, তবে বাইরে এমন মানুষজন আছেন যাঁরা নিজেদের রোগ ছড়িয়ে ফেলার জন্য দায়ী। এই জন্য বাচ্চাকে কোন বয়সে বাড়ির বাইরে প্রথম বের করবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু চিন্তা ভাবনা করে নেওয়া দরকার।

 

শিশুকে প্রথম বাড়ির বাইরে বের করার আগে যে কথাগুলি বিবেচনা করবেনঃ

 

১। এটি অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন যে আপনার শিশু চড়া রোদ এবং উত্তাপের সংস্পর্শে না আসে

এর একটি অতিরিক্ত কুফল আছে – যে সমস্ত বাচ্চারা চড়া রোদ এবং তাপের সংস্পর্শে আসে তাদের পরবর্তী জীবনে ক্যন্সার সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সুতরাং খুব বেশী গরম থাকলে তাদেরকে বাইরে নিয়ে যাবেন না। এর অন্যতম কারণ এই যে শিশুদের ত্বক বিশেষভাবে সংবেদনশীল এবং কোমল প্রকৃতির হয়। তাই স্বাভাবিক থেকে বেশী গরম তাদের ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে এবং ত্বককে পুড়িয়ে দিতে পারে।

 

২। উষ্ণ এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় তাদেরকে বাইরে বের করবেন না

আগে যে কারণগুলি উল্লেখ করা হয়েছে সেই একই কারণে শিশুকে প্রবল গ্রীষ্মে এবং প্রবল শীতেও বাইরে বের করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়, যেহেতু চরম মাত্রার আবহাওয়া কোমল এবং সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ভাল নয়। ঠান্ডা আবহাওয়ার ফলে শিশুর জটিল ধরণের হাঁচি এবং আপাতদৃষ্টিতে সাধারন ধরণের ঠান্ডা লাগতে পারে, কিন্তু এই ঠান্ডাও বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পক্ষে বিপজ্জনক।

 

৩। বাচ্চার পোষাকের ক্ষেত্রে খুব হালকা পোষাক পরানো বা একগাদা জামাকাপড় দিয়ে তাকে মুড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

বেশী জামাকাপড় পরানোর ফলে বাচ্চার বেশী ঘাম হতে পারে ও শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে যা শিশুর পক্ষে যথেষ্ট পীড়াদায়ক হয় এবং তাদেরকে শারীরিক অস্বস্তির মধ্যে ফেলে। একেবারে হালকা পোষাকও ক্ষতিকর হতে পারে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপরে ভিত্তি করে। যদি আবহাওয়া ঠান্ডা ধরণের হয় তবে শিশুর ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ভয় থাকে এবং আবহাওয়া উষ্ণ হলে শিশুর ত্বক পুড়ে যেতে পারে।

 

৪। আপনার এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সজাগ থাকুন

যখন ফ্লু সংক্রমণের সময় অথবা চারপাশে যখন বিশেষ কোন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে তখন শিশুকে বাড়ির মধ্যেই রাখাই ভাল। স্বাভাবিকভাবে শিশুর দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কথা ভেবে এই সময়গুলিতে শিশুকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

 

৫।অভিভাবকেরা যখন আপনার শিশুকে বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন তখন সবসময় সঙ্গে একটি চাদর রাখুন

যখন আপনি শিশুকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন, তখন বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা আপনাকে ভেবে নিতে হবে। আবহাওয়ার অবস্থা এবং তার সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে শিশুকে হঠাৎ ঠান্ডা হাওয়া বা সূর্যের প্রবল উত্তাপ থেকে রক্ষা করতে আপনার সঙ্গে একটি চাদর রাখা জরুরী।

 

বাইরের মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার মধ্যে অবশ্যই কোন ত্রুটি নেই, কিন্তু এখানে আলোচিত সমস্ত ব্যাপারগুলি সম্পর্কে সজাগ থাকুন এবং শিশুর সঙ্গে আনন্দে সময় কাটান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: