প্রসবের সময় এপিডিউরাল নেওয়ার ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

যে কোনও প্রসবের জন্যে এপিডিউরাল একটা অন্যতম উদাহরণ, এই নিয়ে কোনও অন্য মত থাকতে পারে না। এপিডিউরাল নারীর যন্ত্রণা দূর করতে অন্যতম। তবে এপিডিউরাল ঠিক ততটা যন্ত্রণাহীন নয় যতটা আমরা ভেবে থাকি। কিওরজয়ের একটা লেখায় এপিডিউরালের ১১টা ভয়ানক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে যেগুলি সাধারণত মায়েদের মনে থাকেনা । তবে সবার আগে আমাদের জানা দরকার!

এপিডিউরাল কী?

সন্তান প্রসবের সময় এপিডিউরাল যন্ত্রণা কমানোর সবচেয়ে ভালো এবং প্রচলিত উপায়। এই ক্ষেত্রে সাধারণত লোকাল অ্যানেস্থেটিক ব্যবহৃত হয় যে’টা ইঞ্জেক্ট করা হয় মেরুদণ্ডের বা স্পাইনাল কর্ডের চারপাশের শক্ত আস্তরণের পাশে যার ফলে সমস্ত যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি কম হয়।

সত্যিই দরকারি?

প্রতিটি মানুষের যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা আলাদা। কাজেই প্রসবের সময় যদি মনে হয় যে তাঁর যন্ত্রণা অসহ্য হয়ে উঠছে তাহলে তিনি এপিডিউরাল পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।

প্রসবের সময় এপিডিউরাল কী ভাবে কাজ করে?

অ্যানেস্থেটিক যেভাবে কাজ করে, এপিডিউরালও সেই ভাবেই কাজ করে। যে নার্ভগুলোর মাধ্যমে যন্ত্রণার সংকেত ইউট্রাস আর সার্ভিক্স থেকে প্রভাব বিস্তার করে সেই গুলিকে ব্লক করে দেওয়াই এপিডিউরালের কাজ। এই ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় পিঠের নীচের দিকে এবংএর ফলে শরীরের নীচের দিক সম্পূর্ণ অবশ হয়ে যায়। তবে শরীর অবশ হতে শুরু করলেও স্বজ্ঞানে থাকে।

এপিডিউরাল দেওয়ায় যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে

এপিডিউরালের উপকারিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু প্রসবের ক্ষেত্রে কিছু ক্ষতিকারক দিকও আছে। এপিডিউরাল ব্যবহার করলে এমন কিছু আপনার সাথে হতে পারে:

১। গর্ভের শিশুর অবস্থান পালটে গিয়ে, ভ্যাজিনাল প্রক্রিয়ায় জন্মের সম্ভাবনা কমে আসতে পারে।

২। এর ফলে মায়ের সিন্থেটিক অক্সিটোসিনের প্রয়োজন বেড়ে যেতে পারে।

৩। এপিডিউরাল নিলে মায়ের সি-সেকশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।

৪। সাংঘাতিক রকমের পেরিনিয়াল টিয়ারে আঘাত পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৫। এর ফলে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

৬। এর ফলে অনেক রকমের জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং সেই জটিলতা কাটাতে ইন্সট্রুমেন্টাল ডেলিভারির প্রয়োজন হতে পারে। এবং এর ফলে ভ্যাজিনাল ক্ষত দেখা দিতে পারে। তাছাড়া এক্ষেত্রে নবজাতক শিশুর মুখে আঘাত বা খুলির হাড়ে ক্ষতি কিংবা মাথার ভিতর রক্ত জমে যাওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।

৭। এতে সন্তান প্রসবের পর তলপেটে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

৮। অনেক সময় দেখা যায় এপিডিউরাল দেওয়ার পর গর্ভজাত সন্তানের হৃদস্পন্দন কমে আসে। কারণ ওষুধের প্রভাব মুক্ত হতে শিশুদের অনেক বেশি সময় লাগে।

৯। এর ফলে মায়েদের জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যার প্রভাব শিশুর ওপরে পড়তে পারে।

১০। যেসব মায়েরা এপিডিউরাল নিয়েছেন, দেখা যায় যে অনেক সময় তাঁরা নিজেদের সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন না। এপিডিউরালের ওষুধ যত কড়া হবে, মায়েরা ততটাই কম সময় পাবেন নিজের শিশুর সঙ্গে কাটানোর জন্য।

১১। যে মায়েরা প্রসবের সময় এপিডিউরাল ব্যবহার করেছেন, তাঁদের বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আপনি কি প্রথম বার মা হতে চলেছেন? এপিডিউরাল নেওয়া উচিৎ হবে কি হবে না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না? আপনার উচিৎ আপনার গাইনোকলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা। এপিডিউরালের উপকারিতা এবং অসুবিধেগুলো সম্বন্ধে আপনার ডাক্তারই আপনাকে সঠিক ভাবে বুঝিয়ে বলতে পারবেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: