শিশুকে মারধোর করা খারাপ

সব বাবা মায়েরাই নিজের বাচ্চাদের ভালোবাসেন। কিন্তু তাঁদের এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় যে ছেলেমেয়েকে কী ভাবে শাসন করবেন সে’টা বুজতে না পেরে তাঁরা বাচ্চাদের মারধোর করে ফেলেন। মারধোর করা মানে বাচ্চাদের হিংস্র করে তোলা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা ছোটবেলায় মারধোর খেয়েছে,বড় হয়ে তাঁরাই আত্মবিশ্বাসের অভাব আর ডিপ্রেশনে ভুগেছে। 

ছেলেমেয়েকে মারধোর না করে কী ভাবে শাসন করতে হবে?

১। কথা বলুন এবং শান্ত থাকুন

বাচ্চার ব্যবহারে হয়ত আপনি অত্যন্ত বিরক্ত বা ভীষণ রেগে গেছেন। আপনি চাইছেন ওর ভুলটা স্পষ্ট ভাবে ওকে বুঝিয়ে দিতে। কিছু বলে ফেলার আগে নিজেকে শান্ত করুন, কোনও কিছু বলতে হলে চিৎকার করতে হবে; তার কোন কারণ নেই।

 

২। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন

বাচ্চাকে বুঝতে সাহায্য করুন যে কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ। অল্প বয়স থেকে নিজে সিদ্ধান্ত নিক। আর সিদ্ধান্তের ঠিক ভুল গুলো ওর কাছে স্পষ্ট করে দিন।

৩। যুক্তিনির্ভর কথা

ছেলেমেয়ের ভয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়াটা সম্পূর্ণ অন্যরকম ব্যাপার এবং সেটা অভিপ্রেত নয়। আপনার দায়িত্ব ঠিক ভুল জানতে সাহায্য করা।

 

৪। ঝগড়া

আপনার বাচ্চা আপনার সঙ্গে অসম্মানজনক ব্যবহার করছে। সেই ক্ষেত্রেও মাথা ঠাণ্ডা রাখার দরকার, মারধোর বা চিৎকার কিছুতেই করবেন না। মাথা ঠাণ্ডা হলে আপনার ছেলে বা মেয়ে নিজেই এসে আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইবে।

৫। বাচ্চাকে আগে থেকে নিজের মতামত জানান

বাচ্চাদের বদমেজাজের পিছনে থাকে তাঁদের অসহায়তা, এটা আপনাকে বুঝতে হবে। সন্তান কে ঠিক ভুলগুলো বোঝাতে চেষ্টা করুন, ভালো মন্দের তফাৎটা স্পষ্ট করে দিন। এর ফলে বুঝবে যে আপনার ওর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রয়েছে।

 

বাচ্চাকে শাসন করার সময় এমন কিছু করে বসবেন না যাতে ওর আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঠিক শাসন বাচ্চাদের ভালোর জন্যেই জরুরী কিন্তু খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার শাসনের কারণে আপনাকে ভয় পেতে না শুরু করে। আপনার প্রতি ওর বিশ্বাস যেন অটুট থাকে। 

Leave a Reply

%d bloggers like this: