শিশুর ওজন বাড়ানোর চেষ্টায় ভুল পদক্ষেপ

মায়েদের একটা বড় চিন্তা হচ্ছে যে তাঁদের বাচ্চার স্বাস্থ্য যথেষ্ট ভালো নয় এবং সে যথেষ্ট খাওয়াদাওয়া করছে না। সেই কারণে বাচ্চাদের যতটা বেশি পরিমাণে সম্ভব খাওয়ানো। কিন্তু এটি অত্যন্ত ক্ষতিকারক। শিশুদের স্বাস্থ্য আরও ভালো করার জন্য মায়েরা এমন কিছু কাজ করে থাকে যা থেকে নয়!

১। ঘি

অনেকের ধারণা ঘি খাওয়ালে সন্তানের ওজন সঠিক ভাবে বাড়বে। এক চামচ ঘি হজম করতে শিশুর অনেক সময় লাগে। আর বাচ্চার সব খাবারে ঘি থাকা মানে বাচ্চা সেই খাবার দ্রুত হজম করতে পারে না এবং এর ফলে ওর খিদেও কম পায়। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমে আসে। অতএব ঘি যুক্ত খাবারদাবার বাচ্চাকে না দেওয়াই ভালো।

২। কার্বোহাইড্রেট

বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট আর স্টার্চ খাওয়ালে ওজন সহজে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু অত্যধিক কার্বোহাইড্রেট আর স্টার্চ থেকে হতে পারে কন্সটিপেশন, পেট ফাঁপা এবং পেট ব্যথা। শিশুকে কোন ধরণের খাবারই অপরিমিত ভাবে খাওয়ানো উচিৎ নয়। চীজ, মাখন, পাউরুটি, ভাত ইত্যাদি বাচ্চাকে খাওয়াতেই পারেন কিন্তু কম পরিমানে।

৩। ভাজাভুজি

বাচ্চাকে ঘরে ভাজা খাবারদাবার খাওয়ানো মানেই তার ওজন বাড়বে, ফলে বাচ্চাদের সেদ্ধ বা রোস্টেড খাবারদাবারের বদলে সবকিছুই ভেজে খাওয়াতে চেষ্টা করেন যাতে বাচ্চার ওজন বাড়ে। কিন্তু এর ফলে শিশুর বিভিন্ন শারীরিক অসুবিধা এবং অস্বস্তি শুরু হতে থাকে।

৪। জোর করে বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ানো

সন্তানদের বেশি করে খাওয়াতে চান বা জোর করে খাওয়াতে চান। ভাবেন শিশুরা নিজেদের খাবারের পরিমান বোঝে না, কিন্তু অসুবিধা হল জোর করে খাওয়ানোর ফলে বাচ্চারা নিজেদের শরীরের প্রয়োজন এবং খিদে নিজেরাই বুঝতে পারে না। তাই খাবার গিলতে শুরু করে। জোর করে খাওয়ালে কোনো দিন ওজনও বাড়বে না।

৫। জাঙ্ক ফুড

মায়েরা তাদের সন্তানকে জাঙ্ক ফুড খাওয়ান। যেহেতু তাঁদের বাচ্চারা আর কিছু খেতে চায় না, তাঁদের ধারণা যথেষ্ট পরিমাণে জাঙ্ক ফুড খাওয়ালেই বাচ্চার ওজন বাড়বে। সেই সমস্ত মায়েরা জানেন না যে জাঙ্ক ফুডে থাকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, বিভিন্ন প্রিজার্ভেটিভ আর ক্ষতিকারক আরও অনেক কিছু, যেগুলো আপনার শিশুর স্বাস্থ্য আর নার্ভাস সিস্টেমের জন্য ক্ষতিকারক।

 

যতক্ষণ আপনার শিশুর স্বাভাবিক কাজকর্ম যদি কোনও গোলমাল নজরে না পড়ে, তাহলে ওর ওজন নিয়ে অকারণ চিন্তিত করবেন না। তাই বাচ্চাদের ওজন নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তা করবেন না। আর যারা ভাবেন যে মোটাসোটা বাচ্চা মানেই সুস্থ, সেটা কোনো ভাবেই ঠিক নয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: