শিশু স্তনপান ছাড়া ঘুমোতে পারে না

যে কোনও মায়ের জন্যেই স্তনপান করানোটা মাতৃত্বের অনুভূতিগুলোর মধ্যে অন্যতম কিন্তু স্তনপান প্রথম দিনগুলো বেশ কষ্টকর হতে পারে। কিন্তু সহজ হয়ে আসার পর স্তনপানের অভিজ্ঞতাও সুন্দর হয়ে ওঠে। তবে একটা সময় হয় যখন মায়েরা বাচ্চাদের স্তনপান করিয়ে ঘুম পাড়ান। শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস স্তনপান করিয়ে ঘুম পাড়ানোর স্বাভাবিক। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে শিশুদের এই অভ্যাসটা থেকে যায়, তখন সেটা চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে। তবে স্তনপান করিয়ে ঘুম পাড়ানো ব্যাপারটা ক্ষতিকারক তা কিন্তু নয়।

বাচ্চাকে স্তনপান করিয়ে ঘুম পাড়ানোর কিছু ভালো ও কিছু মন্দ দিক রয়েছে।

ভালো দিকগুলো কী কী?

মায়ের বুকের কাছে ঘুমোনোর সময় বাচ্চারা নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত বোধ করে, এবং সহজে ঘুমিয়েও পড়ে। স্তনপানের সময় শিশুরা মায়ের মমতা ভরা স্পর্শ অনুভব করতে পারে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে। ফলে মা এবং সন্তানের সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়। মায়ের এই স্পর্শ শিশুর ঘুমের জন্য আদর্শ। বাচ্চাদের মেজাজ ঠিকঠাক না থাকলে বা তারা অনেক সময় স্তনদুগ্ধ খোঁজে। স্তনদুগ্ধ বাচ্চাদের শান্ত করে আর তাদের খিটখিটে মেজাজকে ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে। এ’তে তাদের ঘুম পাড়ানোয় সুবিধে হয়।

 

তাছাড়া স্তনদুগ্ধে কোলেসিস্টোকাইনিন হরমোন আছে যা বাচ্চা এবং মা দু’জনকেই ঘুম পাড়াতে সাহায্য করে। স্তনদুগ্ধে থাকে এমন সব আম্যাইনো অ্যাসিড যা সেরোটোনিন সিন্থেসিসে সাহায্য করে, যা বাচ্চাকে ঘুম পাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া, পুষ্টিগত দিক দিয়েও স্তনদুগ্ধ হচ্ছে শিশুর জন্য সবচেয়ে উপকারী খাবার।

 

বাচ্চা যত বড় হয় ততই তারা স্তনপানে য়ের সময় অমনোযোগী আর ছটফটে হয়ে ওঠে। এর ফলে ওদের স্তনদুগ্ধ খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়, তার জন্য ওদের মধ্যে পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে। রাত্রে বাচ্চারা ক্লান্তির জন্য শান্ত হয়ে যায় আর এই সময় ওদের স্তনদুগ্ধ দিলে গোটা দিনের পুষ্টির অভাব পূরণ করা যেতে পারে।

খারাপ দিকগুলো কী কী?

স্তনদুগ্ধ খাইয়ে বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর সবচেয়ে খারাপ দিক, ওদের স্বাভাবিক ঘুমের নিয়মে ব্যাঘাত ঘটানো। এই ভাবে ঘুম পাড়ানোর ফলে আপনার শিশু ঘুমের সঙ্গে স্তনদুগ্ধ খাওয়ার সোজাসুজি সম্পর্ক আছে বলে ধরে নেয়। তখন সে কিছুতেই আর নিজে থেকে ঘুমোতে চাইবে না। তবে এই নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, বাচ্চা সঠিক বয়সে এলে সব কিছু আপনা থেকেই ঠিক হয়ে যাবে।

 

কিন্তু ঘুমোনোর সময় স্তনদুগ্ধ খাওয়ার অভ্যাস যদি না কাটতে চায় তাহলে আপনাকেই ঘুমের সময় স্তনপান বন্ধ করতে হবে। তবে ব্যাপারটা সহজ নাও হতে পারে, কারণ অভ্যাসের কারণে বাচ্চারা রোজই ঘুমোনোর সময় জেদ ধরতে পারে স্তনদুগ্ধের জন্য।

 

আর বাচ্চাকে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম পাড়ানোর অভ্যাস করাতে পারলেই ওর ঘুমের আগে স্তনদুগ্ধ খাওয়ার নেশাও কমে আসবে। রাতের একটা নির্দিষ্ট সময়ে অন্য কোনো কিছুর সাহায্যে ঘুম পাড়ানো সহজ হবে। তবে বাচ্চাকে কে ঘুমের মধ্যে স্তনপান করাতে যদি আপনার কোনও অসুবিধে না হয়, তাহলে আপনি তা করতে পারেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: