সন্তানের জন্মের সময় আপনার যে বিষয়ে প্রস্তুত থাকা উচিৎ

মা হবেন জানার পর থেকেই আপনার জীবনে খুশির ঝড় ওঠে। আর সে ঝড় বেশ মজাদার বিশেষত একজন নারীর ক্ষেত্রে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, পরিবর্তন আসে তার শরীর এবং মনেও। এই পালটে যাওয়াগুলো বেশ সুমধুর। কিন্তু এমন বিষয় রয়েছে যা নিয়ে কেউ তেমন আলোচনা করেন না।

 

১। ঘরের পরিবেশ

আগের মত করে আর কিছুতেই গুছিয়ে রাখতে পারবেন না, সে আপনার বাড়িটি যতই দুর্দান্ত হোক না কেন। শিশু অন্য ঘরে শুলেও, নিশ্চিন্ত থাকুন যে শিশুর জিনিসপত্রে আপনার ঘর ভরে যাবে। একমাত্র আপনার রান্নাঘরে তেমন ভাবে পালটে যাবে না, যদি না রান্নার সমস্ত ভার আপনার উপরই থাকে। শুধু তাই নয়, আপনার ব্যালকনিও শিশুর ভেজা জামা কাপড় শুকোনোর জন্য ভর্তি থাকবে।আপনার দিনের বেশির ভাগ সময়টাই কেটে যাবে শিশুর পরিচর্যায়। আপনার গায়েও থাকবে একটা অন্য সুগন্ধ। ঘরের আলো বা শীততাপ ব্যবস্থা শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে। সুতরাং অনেক কিছুই পালটে যাবে এবং আপনাকে বদলের জন্যেই প্রস্তুত থাকতে হবে। যাতে পরিবর্তনগুলো আপনাকে বিব্রত না করতে পারে।

২। টাকা পয়সা

এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হবু বাবা-মা বা তাঁদের পরিবার সাধারণত হাসপাতালের খরচটুকুর বাইরে বিশেষভাবে কোনও খরচের পরিকল্পনা আগে থেকে করে রাখে না। বাচ্চা হওয়ার পর হাসপাতালের খরচটুকু বাদেও অনেক রকম খরচা থাকবে। কাজেই টাকাপয়সার হিসেবপত্তর অনেক আগে থেকে করে রাখা ভালো, নয়তো আদত সময়ে বিপদে পড়তে হবে। মূল খরচ বলতে ডাক্তারের ফীজ, ওষুধপত্র, লন্ড্রি আর ডাইপার।

 

৩। একাগ্রতা এবং মনঃসংযোগ

প্রত্যেক বাবা মায়ের জন্য এ’টা জরুরী। আপনার নিজের ওপর মনোযোগ ও একাগ্রতা কমে আসতে বাধ্য অন্তত শিশুর বছর দুয়েক বয়স পর্যন্ত। কারণ এ সময়টা আপনার মন সর্বক্ষণ পড়ে থাকবে আপনার শিশুর দিকে, ওর যাবতীয় প্রয়োজনের দিকে। এ সময়টা আপনি হয়তো কোনও বই পড়ায় মন বসাতে পারবেন না, টিভি খুলেও ধৈর্য ধরে দেখতে ইচ্ছে করবে না। তবে তাতে চিন্তার কিছু নেই। জেনে রাখুন এটা একদম স্বাভাবিক।

 

কাজেই মনঃসংযোগ নষ্ট হলে বিচলিত হবেন না। আর এর মধ্যে দিয়ে নিজের একাগ্রতাও ফিরে পাওয়া সম্ভব। বরং শিশুর জন্মের পর জীবনে নেমে আসা পরিবর্তনগুলোকে মন দিয়ে উপভোগ করুন। 

Leave a Reply

%d bloggers like this: