যোনি সুস্থ রাখা আপনারই দায়িত্ব

যোনি সুস্থ আছে কি না তা সব মেয়েরই খেয়াল রাখা উচিত। যোনিতে নানা ধরনের রোগ হতে পারে এবং তার অনেকটাই যৌন সংসর্গের ফলে হয়ে থাকে। তাছাড়া যোনিরসের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিকঠাক না থাকলে এবং যোনিতে ব্যাড ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলেও নানা রোগ হতে পারে!

যোনির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না। তেমন কোনও র‌্যাশ বা যোনিরস অতিরিক্ত দেখলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। কিন্তু কি হয়েছে কি না সেটা জানবেন কীভাবে?

আপনি নিজেই নিজের যোনি পরীক্ষা করে দেখুন অথবা সঙ্গীকে বলুন এ ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করতে। কিন্তু তাঁকে না পেলে নিজে কী করে পরীক্ষা করবেন? খুব সহজ। আগে অবশ্যই ঘরে জোরালো আলো জ্বালিয়ে নেবেন। বিছানায় পা ফাঁক করে বসুন এবং একটি আয়না রাখুন এমন একটি পজিশনে যাতে প্রতিবিম্বে যোনি এবং ভালভা ভাল করে দেখতে পান আপনি। যোনি বলতে কিন্তু শুধু যোনিছিদ্র নয়, ক্লিটোরিস, ভালভা এবং ভালভার ভিতরের অংশও ভাল করে পর্যবেক্ষণ করবেন। কোনও রকম ফোস্কা বা র‌্যাশের মতো কিছু রয়েছে কি না তা লক্ষ্য করবেন।

আয়নায় দেখার পরে আঙুল ব্যবহার করুন। আঙুল দিয়ে ভালভার ভিতরের অংশ, ক্লিটোরিস এবং যোনিছিদ্রের ভিতরের অংশ স্পর্শ করুন। কোনও র‌্যাশ থাকলে তা বুঝতে পারবেন। কিছু কিছু ইনফেকশন বা যৌনরোগের কারণে যোনির ডিসচার্জের রং বদলে যায়। তাই যোনিরসের রং পরীক্ষা করাও জরুরি। একটি পরিষ্কার সাদা কাপড় প্যান্টির মধ্যে কয়েক ঘণ্টা পরে থাকুন। তার পরে দেখুন কোনও রকম অস্বাভাবিক ডিসচার্জ হচ্ছে কি না।

মেডিকেল স্টোর থেকে ট্যাম্পুন কিনে আনুন। সেটি যোনিতে ইনসার্ট করে কয়েক সেকেন্ড রাখুন। তার পরে ট্যাম্পুনটি বার করে নিয়ে লক্ষ্য করুন ট্যাম্পুনের গায়ে যোনিরসের রংয়ে কোনও অস্বাভাবিকত্ব আছে কি না। প্রি-মেনস্ট্রুয়াল পর্যায় ছাড়া মাসের অন্য সময়েও যদি হালকা হলদেটে ডিসচার্জ দেখেন তবে একবার স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা ভাল।

প্রতি মাসেই একবার অন্তত এই পরীক্ষা করুন। রোগের হাত থেকে মুক্তির প্রথম উপায় হল সতর্ক থাকা। 

Leave a Reply

%d bloggers like this: