পাতে নুন খাওয়া বা যেকোনো খাবারে নুন মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যেসের সম্পর্কে কিছু তথ্য

নুন ছাড়া খাবারের কি স্বাদ মেলে? এককথায় সবাই নির্দ্বিধায় ‘না’ বলতে পারেন। ঝাল তো বটেই, এমনকি মিষ্টি খাবারেও নুন স্বাদে ভিন্নতা আনে।

কিন্তু অতিরিক্ত নুন যে স্বাস্থ্যহানী ঘটায় সে কথা আমরা সবাই জানি। তবুও এখানে নুন সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। পড়লেই বুঝবেন, অতিরিক্ত নুনকে কেন ‘না’ বলতে হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের অধিক নুন উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট ফেইলিওরের অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে অনেক কার্ডিওলজিস্ট মত দেন যে, হৃদযন্ত্র যখন পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করে দেহে ছড়িয়ে দিতে পারে না তখন হার্ট ফেউলুওরের ঘটনা ঘটে। খাওয়ার নুন সোডিয়াম জল শুষে নেয়। কাজেই বাড়তি নুন দেহের বাড়তি জল শুষে নেয়। ফলে রক্তে জলের পরিমাণ কমে যায়। এতে হৃৎপিণ্ডে বাড়তি চাপ পড়ে এবং হার্ট ফেইলিওরের ঘটনা ঘটে থাকে। তাই পরিমাণ মতো নুন খেতে হবে।

নুন গ্রহণের সঠিক মাত্রা

এটা জানা প্রত্যেক মানুষের জন্যে অতি জরুরি। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলেন, যদি হৃদযন্ত্র নানা সমস্যায় ভুগতে থাকে, তবে দিনে একজন মানুষের ২-৩ গ্রামের কম নুন খেতে হবে। এর বেশি নয়। যারা হাইপারটেনশনে ভুগছেন, তাদের অবশ্যই ৫ গ্রামের কম নুন খেতে হবে।

দেহের দরকার সোডিয়াম

এটি একটি খনিজ যা জীবন পরিচালনের জন্য দরকার। দেহে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে সোডিয়াম। পেশির কার্যক্রম এবং স্নায়বিক কাজ সুষ্ঠুভাবে চালানোর কাজেও সহায়তা করে এটি। নুন খাওয়া যখন দেহের জন্যে প্রয়োজনীয়, তখন যা দরকার তার চেয়ে অনেক বেশি নুন খেয়ে থাকি আমরা। কিন্তু এতে রক্তচাপে সমস্যা দেখা দেয়। রক্তচাপ বেড়ে যায়। আর উচ্চ রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেউলুওরের পেছনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

উচ্চমাত্রার সোডিয়ামপূর্ণ খাবার

আধুনিক যুগে মানুষ না খেয়েই থাকতে চায়। কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে পছন্দ করে। অনেকেই জানেন না, প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে ৭৭ শতাংশ নুন আসে দেহে। তাই এসব খাবার কেনার আগে তার গায়ে সোডিয়ামের পরিমাণ জেনে নেওয়াটা জরুরি। যা দরকার তার চেয়ে বেশি খাওয়ার বিপদ তো জানেনই। আগে থেকেই তৈরা করা অবস্থায় পেয়েছেন এমন খাবারই নুনে ভরপুর থাকে। প্যাকেটজাত খাবারের বিষয়ে তাই সাবধান! ভাজা-পোড়ার সঙ্গে বাড়তি সস খাবেন না। প্রিয় আঁচারেও কিন্তু নুন থাকে বেশি।

খুব চলে এমন কিছু জাঙ্ক খাবারের কথা বলা হলো। এগুলোতে অনেক বেশি নুন থাকে। এর সম্পর্কে জেনে নিন।

১. কটেজ চিজ 

অনেকের কাছে প্রিয় খাবার। এর এক কাপে ১০০০ মিলিগ্রাম নুন তাকে। তাই এই পরিমাণ চিজ প্রয়োজনের ৪০ শতাংশই আপনাকে সরবরাহ করতে সক্ষম। তাই হিসেবটা সাবধানে করবেন।

২. বেকড খাবার 

যে মজার খাবারগুলো বেক করা হয় সেগুলো সাধারণ মিষ্টি ও সোডিয়ামে পূর্ণ থাকে। এখানে সোডিয়াম আসলে প্রিজারভেটিভ হিসেবেই দেওয়া হয়। এ ধরনের খাবার থেকে ২০০ মিলিগ্রাম নুন আসতে পারে।

৩. স্যুপ

মজাড়ার স্যুপও কিন্তু প্রচুর সোডিয়াম থাকে। সাধারণ যে পরিমাণ স্যুপ রেস্টুরেন্ট একজনকে দেওয়া হয় তাতে ১০০০-১৫০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম মিলে যেতে পারে।

৪. বার্গার ও হট ডগ

জাঙ্ক ফুড নুনের ঘাঁটি। একটা থেকেই মিলবে ৫০০ মিলিগ্রাম নুন ।

৫. প্যাকেটজাত মুরগির মাংস

অনেক সময়ই এর বুকের মাংসে উচ্চামাত্রার সোডিয়াম সলুশন ইঞ্জেকশন করা হয়।

মনে রাখবেন

১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একজন প্রাপ্তবয়স্কের দিনে সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম নুন নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এটা মোটামুটি এক টেবিল চামচের সম পরিমাণ।

২. আমাদের দৈনিক খাবারে সোডিয়াম ক্লোরাইড প্রধান উৎস। যে নুন বাজার থেকে কিনে আনেন এটা তাই। এতে ৪০ শতাংশ সোডিয়াম এবং ৬০ শতাংশ ক্লোরাইড থাকে।

৩. কার্ডিওলজিস্টরা বলেন, যদি কারো উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নাও থাকে, কম পরিমাণ সোডিয়াম রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াকে আটকাতে পারে। এটা সাধারণত বয়সের সঙ্গে ঘটতে থাকে। এতে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

৪. বাড়তি নুন দেহের জল শুষে নিতে পারে। আবার এই বাড়তি জল ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: