শিশুর কান পরিষ্কারের জন্যে ঠিক কতটা নিরাপদ এই কটন বাড?

আপনি কি শিশুর কান খোঁচাতে ওস্তাদ? কান রোজ পরিষ্কার করতে হবে, এটা জানেন ও মানেন। সেইজন্য নিয়ম করে কটন বাড ব্যবহার করছেন? জেনে রাখুন এতেই বরং আপনি শিশুর বিপদ ডেকে আনছেন।

কান আর কটন বাড। এদের সস্পর্ক গভীর। ভাবছেন হয়ত, এক ঢিলে দুই পাখি মারা হচ্ছে! শিশুর কান পরিষ্কার থাকছে, আরামও হচ্ছে। কিন্তু না, বরং বাড়ছে বিপদ।

কটন বাডে কানের ক্ষতি

সিংহভাগ লোকের মত, শিশুদের নিয়মিত কান পরিষ্কার করা উচিত। কটন বাডই কান পরিষ্কারের সবচেয়ে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য উপায়। তবে গবেষণা বলছে, এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। কানের সমস্যা নিয়ে ডাক্তারদের কাছে যে লম্বা লাইন পড়ে তার মধ্যে অনেকেরই সমস্যার কারণ কটন বাড ব্যবহার। শিশু হলে তো কথাই নেই।

১. কটন বাড ব্যবহারের ফলে কানের ভিতরের ময়লা আরও বেশি ভিতরে ঢুকে যায়।

২. শিশুর নরম কানের পর্দার আরও কাছে পৌছে যায় ময়লা।

৩. কানের মধ্যে থেকে যতটা না ময়লা বের হয়, তার চেয়ে বেশি ভিতরেই থেকে যায়।

৪. শিশুর কানে ক্ষত সৃষ্টির আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।

৫. আঘাত লাগলে তার কানের পর্দা ফেটে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে।

৬. শিশুর নরম কানের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৭. শোনার ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

৮. নষ্ট হয়ে যেতে পারে শিশুর শরীরের ভারসাম্য।

কটন বাড ব্যবহার শিশুকে সাময়িক আরাম দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্ভাবনাই প্রবল। কটন বাড ব্যবহারের ফলে কানে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। বহুদিন ধরে এটি ব্যবহার করলে ছত্রাক সংক্রমণও হতে পারে। অহেতুক কটন বাড নিয়ে কান খোঁচাখুঁচি তাদের জন্যে বিপজ্জ্বনক। কানের ভিতরে চামড়ার নানা সমস্যা ও ব্যথার কারণও কটন বাড। অনেকসময় কটন বাডের তুলোর খানিকটা অংশ শিশুর কানে থেকে গিয়ে বিপদ বাড়ায়। কানের ময়লা সাধারণত বিশেষ কারণ ছাড়া আলাদাভাবে পরিষ্কার করার প্রয়োজন পড়ে নাকারণ  প্রাকৃতিকভাবেই কানের ময়লা বেরিয়ে আসে। প্রয়োজন হলে কান পরিষ্কারের জন্য ডাক্তারের কাছেই শিশুকে নিয়ে যাওয়া উচিত। শিশুর কানের সুস্থতার জন্য তাই এখনই ছাড়ুন কটন বাড। নয়ত বিপদে পা বাড়ানো হচ্ছে তাদের জন্যে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: