স্তনপান করানোর সময় এই ভুলগুলি করছেন না তো?

একজন নারীর কাছে নিজের শিশুকে স্তন্যপান করানো এক সুন্দর অনুভূতি । স্তন্যপান মাতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। কিন্তু স্তনপান করানোর সময় কখনও কখনও মায়েরা এমন কিছু ভুল করে ফেলেন যার জন্য শিশুদের ক্ষতি হতে পারে। সেই দিকগুলো মাথায় রেখে সব মায়েদের খেয়াল রাখা উচিৎ।

১. টক জাতীয় সব খাবার থেকে দূরে থাকুন


আপনি যা যা খাবেন, তার প্রভাব পড়বে আপনার শিশুর ওপরে। কারণ সাধারণত এই সময় বাচ্চারা শুধুই ব্রেস্ট মিল্ক খায় এবং নিজেদের যাবতীয় খাদ্য আর পুষ্টিগুণ সংগ্রহ করে মায়ের খাওয়া খাবারদাবার থেকে। এবার অতিরিক্ত টক জাতীয় খাবার খেলেই আপনার বাচ্চা পেটের ব্যথা হতে পারে। অতএব অত্যধিক টক খাবারদাবার যেমন অতিরিক্ত টক দই আর তার সঙ্গে মটর, আম, বাঁধাকপি ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।

২. অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ


আপনি যদি আপনার বাচ্চাকে ব্রেস্টফীড করান তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আপনার কোনও ওষুধ খাওয়া উচিৎ নয়, বিশেষত অ্যান্টিবায়োটিক । কারণ এই সমস্ত ওষুধ দুধের মধ্যে দিয়ে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কাজেই কোনও রকম ওষুধ খাওয়া আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

৩. সময়ের তফাতে স্তনপান করানো


জন্মের পরেই প্রথম কিছু মাস আপনার শিশু নিজের পুষ্টির জন্য সম্পূর্ণ ভাবে আপনার স্তনদুগ্ধর ওপর নির্ভরশীল। সে কারণে বাচ্চাদের এই সময় ঘনঘন স্তনপান করানো উচিৎ।

৪. মদ্যপান বা অন্যান্য নেশা


স্তন্যপান করানোর সময় মায়ের মদ্যপান শিশুর জন্য রীতিমত ক্ষতিকারক হতে পারে। আর যদি মায়েরা মদ্যপান করে ফেলেন, সে ক্ষেত্রে শিশুকে স্তনপান করানোর আগে অন্তত চার ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিৎ। চার ঘণ্টা পর রক্তে মদের পরিমাণ যথেষ্ট কমে আসে এবং তার ফলে আপনার বুকের দুধও অনেকটাই মদের প্রভাবমুক্ত হয়।

যেগুলোর সম্পর্কে আপনার সচেতন হতে হবে
১. নিজের খাবারদাবারের ব্যাপারে যত্নশীল


স্তন্যপান করানোর সময় খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার খাবারে থাকে যথেষ্ট পরিমাণে টাটকা ফল আর শাকসবজি। এর সঙ্গে থাকা দরকার প্রোটিন, ক্যালসিয়াম আর আয়রন। এতে আপনার ব্রেস্টমিল্কের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

১. জল পান


স্তন্যপান করানো মায়দের উচিৎ যতটা সম্ভব জল খাওয়া। কারণ শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময়ে মায়েদের দেহে অক্সিটোসিন নামে একটা হরমোন নিঃসৃত হয় যা তেষ্টা বাড়িয়ে তোলে। এই সময় জল ছাড়াও আপনি দুধ বা ফলের রস নিয়মিত খেতে পারেন কারণ এগুলো আপনার শরীরকে বাড়তি পুষ্টির যোগানও দেবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: