বেশি হেঁচকি উঠলে কি করবেন

হেঁচকি আমাদের একটি বড় সমস্যা। হঠাৎ করেই এই রোগের আগমণ ঘটে। কারো কারো জল খাবার পরও হেঁচকি উঠতে থাকে, কিন্তু এমন হলে কি করবেন তা আমাদের জানা নেই।

হেঁচকি কি?


হেঁচকি চিকিৎসা বিজ্ঞানে হিকাপ শব্দ ব্যাবহার করা হয়। যখন বুক এবং পেটের মধ্যবর্তী স্থানের পর্দা ও শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রনকারী মাংসপেশী উত্তেজিত হয় এবং পেশী ঘন ঘন দ্রুত সংকোচনের সময় হঠাৎ বাতাস টেনে নেয়, তখন শ্বাস নালীর উপরের ঢাকনা খুব জোরে শব্দ করে বন্ধ হয়। ফলে হিক হিক এক প্রকার উচ্চ শব্দ হয়। এটাই হেঁচকি।

হেঁচকির বিভিন্ন কারণ


১. পেট ফাঁপা।

২. রক্ত স্বল্পতা।

৩. অধীক মানসিক পরিশ্রম।

৪. ভয়, আতংক ।

৫. ক্রোধ, রাগ চেপে রাখলে।

৬. শরীরের পটাসিয়ামের অভাব হলে।

৭. মসিত্মষ্কের কোন জটিল রোগ।

৮. হার্টের রোগ- মায়োকার্ডিয়াল ইনর্ফাকশন।

৯. পেটের ভিতরের স্নায়ু উত্তেজিত হলে।

১০. খাদ্য নালী সংকোচন হলে।

১১. হেপাটাইটিস।

১২. কিডনী অকেজো হলে।

অনেক সময় উপরের কারণগুলো ছাড়াও অজানা কারণে হেঁচকি হতে পারে। এই রোগের স্থায়ীকাল ১০-১২ দিন বা আরও বেশি।

চিকিৎসা


১. স্বাবাভিক জল পান করতে হবে অথবা বরফ জল বা ঠান্ডা জল পানে উপকার হয়।

২. ডাবের জল গরম করে খাওয়ালে হেঁচকি বন্ধ হয়।

৩. এক মুঠো খই গোলাপ জলে ভিজিয়ে এর সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে খেলে হেঁচকি উপশম হয়।

৪. একটি কাগজের ব্যাগের মধ্যে নাক মুখ ঢুকিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। এই পদ্ধতি আপনার শরীরের প্রবাহিত রক্তে কার্বনডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দিবে এবং ডায়াফ্রামকে সমপ্রসারিত করবে। ডায়াফ্রামের সমপ্রসারণের ফলে হিক্কা বা হেঁচকি বন্ধ হয়ে যায়।

উপরের পদ্ধতিগুলো ব্যর্থ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: