ফোন সেক্স কেমন? ভাল না খারাপ?

জীবনের গতি যত বাড়ছে ততই কাজের সূত্রে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন দম্পতিরা। কেউ কেউ চলে যাচ্ছেন দেশের বাইরে। সেক্সপার্টরা বলছেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রভূত সাহায্য করে ফোন-সেক্স।

ফোন-সেক্স বিষয়টা সাধারণ ভারতীয়দের মধ্যে যে কতটা ছড়িয়ে গিয়েছে, তার একটি ছোট্ট উদাহরণ পাওয়া যায় ‘টু স্টেট্‌স’-এ। সেই দৃশ্যটি মনে আছে নিশ্চয়ই, যেখানে আলিয়া ভট্ট অর্জুন কপূরকে ফোন করে নেহাত মজা করেই ফোন-সেক্সের প্রসঙ্গ তোলেন।

এই জেনারেশনের মধ্যে ক্রমশই বাড়ছে ফোন-সেক্স, সেক্সটিং আর সাইবার-সেক্স। এক সময়ে যা শুধুমাত্র প্রফেশনাল ফোন-সেক্স অপারেটরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন ঢুকে পড়েছে সমাজের সব স্তরেই।

প্রেমিক-প্রেমিকারা বহুকাল ধরেই রাত জেগে ফোনে কথা বলতে অভ্যস্ত। এখন রাত জেগে কথার পাশাপাশি দূরভাষে শুধু কিছু শব্দ দিয়ে পরস্পরের শরীরকে ছুঁয়ে দেখার উন্মাদনা ক্রমশ বাড়ছে। ১৫-১৬ থেকে শুরু করে পঞ্চাশোর্ধ্ব ভারতীয়রা ক্রমশই আপন করে নিচ্ছেন এই অভ্যাস।

কিন্তু প্রশ্ন হল, ফোন-সেক্স কি খারাপ? একেবারেই না, বরং স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকা দু’জন দু’জনের থেকে অনেকটা দূরে থেকেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখছেন ফোন-সেক্সের উপরে নির্ভর করেই। ফোন-সেক্স আছে বলেই অনেকে আলাদা আলাদা শহরে থেকেও বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন না। ফোন-যৌনতায় তৃপ্ত হয়ে আছেন।

ফোন-সেক্সের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য কল্পনাপ্রবণতা। সাইবার সেক্সে দু’জন মানুষ পরস্পরের নগ্ন শরীর বা গোপনাঙ্গকে দেখে উত্তেজনা অনুভব করেন। অথচ ফোন-সেক্সে এই ‘দেখা’টাই নেই। শুধুমাত্র কিছু কথা বা শব্দ একে অপরকে বলা আর তা থেকেই নিংড়ে নেওয়া যৌনসুখ।

একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, কতটা মস্তিষ্ক-নির্ভর এই খেলা। এখানে শরীর নয়, জয় কিন্তু মনেরই।  

Leave a Reply

%d bloggers like this: