শিশুকে হাঁচি আটকাতে বলা মানে প্রায় প্রাণের ঝুঁকি ডাকা; জানুন!

হাঁচি এলে শিশুকে হেঁচে নিতে দিন। হাঁচি আটকে রাখলে মারাত্মক ক্ষতি হয় তাদের। এখন টের না পেলেও, পরে আপনাকে মাসুল গুনতে হবে কড়ায় গণ্ডায়। ডাক্তার গবেষকদের একাংশের মতে, হাঁচি চাপলে হতে পারে শিশুর মারাত্মক বিপদ।

হাঁচির শব্দ নাক থেকে প্রচণ্ড গতিতে বেরিয়ে এসে বাতাসে মেশে। সেই গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ মাইল থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মাইল পর্যন্ত হতে পারে। বহির্মুখী এই চাপকে জোর করে শরীরের ভিতর গিলে নিলে ভিতরে ভিতরে বহু ক্ষতি হতে পারে একটি শিশু শরীরে। যেমন, ল্যারিংসে ফ্র্যাকচার, কোমরে ব্যথা, মুখের নার্ভে ক্ষত, ইত্যাদি।

এখানেই শেষ নয়। জোর করে হাঁচি চাপলে এর থেকেও বড় বিপদ ঘটতে পারে বাচ্চাদের। কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে বধির হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। হাঁচির বহির্মুখী প্রেসার শরীরের ভিতরে গেলে পাঁজর পর্যন্ত গুঁড়িয়ে যেতে পারে। হাঁচি চাপলে যখন তখন পেশীতে মারাত্মক টান ধরতে পারে। হাঁচির প্রেসার বাইরে বেরিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক নিয়ম। বহির্মুখী সেই শক্তি জোর করে শরীরের ভিতর চালনা করলে তা শিশুর মস্তিষ্ক ও দেহের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথাড়ি তরঙ্গ তৈরি করে। ওই তরঙ্গের আঘাতে তাদের শরীরে প্রচুর ক্ষতি হয়।

বরং হাঁচির মাধ্যমে শরীর থেকে ভাইরাস বেরিয়ে যায়। হাঁচি শিশুর নাকের ভিতরের নালি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তাই, জোর করে হাঁচি চাপলে সংক্রামিত মিউকাস ইউস্ট্যাশিয়ান টিউবের মাধ্যমে কানের মধ্যে প্রবেশ করে। এত সব দিক বিবেচনা করে ডাক্তারদের পরামর্শ হাঁচির মতো প্রোটেক্টিভ রিফ্লেক্সকে শিশুদের শরীরে উলটো পথে চালনা না করাই ভাল।

Leave a Reply

%d bloggers like this: