অলিভ তেলের এই নানাবিধ গুনাগুনের কথা জানতেন কি?

অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল মূলত রান্নায় ব্যবহার করা হলেও, বর্তমানে তা জায়গা করে নিয়েছে প্রাসাধনীতেও। ইদানিং, অলিভ অয়েল কাজে লাগানো হচ্ছে সাবান তৈরির ক্ষেত্রেও।

খ্রিস্টপূর্ব প্রায় অষ্টম শতাব্দী থেকে অলিভ গাছের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে মানুষ। স্পেনে সব থেকে বেশি পরিমাণে এই গাছ পাওয়া যায়। তার পরেই রয়েছে ইতালি ও গ্রিস। কিন্তু, ব্যবহারের দিক থেকে গ্রিসের নাম রয়েছে একেবারে উপরে। বর্তমানে ভারতবর্ষেও এই তেল তার প্রভাব বিস্তার করেছে। এর কারণ, অলিভ তেলের নানা গুণাগুণ। বৈজ্ঞানিক মতে, এক চামচ অলিভ অয়েলে রয়েছে;

• ১১৯ ক্যালোরি,

• ১৩ গ্রাম ফ্যাট,

• ১.৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই,

• ৮.১ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে,

• কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও প্রোটিন এতে একেবারেই নেই।

এ বার দেখে নেওয়া যাক, অলিভ অয়েল ব্যবহারের ফলে কী কী উপকার হয়—

১। খুশকির সমস্যায় কার্যকরী

যাঁদের খুশকির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা সপ্তাহে দু’দিন ভাল করে মাথায় এই তেল ম্যাসাজ করুন। তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিলে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়।

২। চুল নরম রাখতে সাহায্য করে

অলিভ অয়েলের সঙ্গে অল্প নারকেল তেল মিশিয়ে চুলের আগা তাতে চুবিয়ে রাখুন। এতে চুল নরম থাকে, এবং ফাটার সম্ভাবনা থাকে না।

৩। হালকা ও চিটচিটে মুক্ত

অন্য যে কোনও তেলের তুলনায় অলিভ অয়েল খুবই হাল্কা, যে কারণে খুব সহজেই মিশে যায় ত্বকের সঙ্গে। রাতে ঘুমনোর আগে, প্রতি নিয়ত কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মুখে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকার ফলে তা ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। যার ফলে ত্বক অনেক বয়েস পর্যন্ত মসৃণ ও টানটান থাকে।

৪। নেইল পালিশ রিমুভার হিসেবে কার্যকরী

প্রতি নিয়ত নেলপলিশ ব্যবহারের ফলে নখের দফারফা হতেই পারে। সপ্তাহে এক দিন মিনিট ১৫ নখ ভিজিয়ে রাখুন অলিভ অয়েলে। ফল পাবেন, বলাই বাহুল্য।

৫. কোলেস্টরেল কমাতেও অলিভ তেল

কোলেস্টরেল কমাতেও জলপাই তেল বিশেষ উপকার করে থাকে। আর তাই যাদের কোলস্টেরলের মাত্রাটা বেশি, তাঁদের জন্য জলপাই তেলের কোনো বিকল্প নেই।

৬. কানের সমস্যা দূর করে

যাদের কানের সমস্যায় রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই জলপাই তেল বা অলিভ ওয়েল বিশেষ উপকার করে থাকে। কানের মধ্যে চুলকানি এ গন্ধ হওয়া এমন বেশ কিছু নর্মাল সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করে এই জলপাই তেল বা অলিভ ওয়েল। কটন বার অলিভ ওয়েলে ভিজিয়ে খুব সাবধানে কানের মধ্যে দিলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। তবে কোন মতেই যেনো কানের মধ্যে কাঠির চাপ না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বা ড্রপারে করে এক বা দুই ফোটা অলিভ ওয়েল কানে দিতে হবে। এতে কানের চুলকানি কমে আসবে। তবে কানে বড় কোন সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুদের গায়ে বিশেষ করে শীতের দিনে এই জলপাই তেল বা অলিভ ওয়েল অত্যান্ত উপকারী। এটি নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত। এভাবে জলপাই তেল বা অলিভ ওয়েল আমাদের প্রভূত উপকার করে থাকে। তাই জলপাই তেল বা অলিভ ওয়েল সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং এর ব্যবহার বাড়িয়ে নিজে সুন্দর থাকুন এবং পরিবারের অন্যসব সদস্যদেরও সুস্থ্য সুন্দর থাকতে সাহায্য করুন।

৭. শিশুদের ত্বকের জন্যে কার্যকরী

বাচ্চাদের ম্যাসাজের জন্য অলিভ অয়েলকে সেরা বলে ধরা হয়। শিশুদের নিতম্ব থেকে র‌্যাশ দূর করতে সামান্য অলিভ অয়েল মাখিয়ে দিন। ওটমিল, সামান্য ক্রিমের সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে তা শিশুর মুখ পরিষ্কারের জন্যে ব্যবহার করুন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: