শিশুদের শীত পড়ার আগে শুকনো কাশি প্রতিরোধ করার কিছু ঘরোয়া উপায়

মরশুম বদলানোর সময় অনেক বাচ্চারাই শুকনো কাশি-র সমস্যায় ভোগে। রইল ঘরোয়া কিছু উপায়।

দেখতে দেখতে অক্টোবর শেষ। সকালের হাওয়ায় এখনই টের পাওয়া যাচ্ছে শীত প্রায় দোরগোরায়। শীত শুরুর এই সময়তে ঠান্ডায় কম বেশি আক্রান্ত হয় প্রায় সব বাচ্চারাই। আর ঠান্ডা লাগলে এর অন্যতম লক্ষন দেখা যায় জর, কাশি, সর্দি। অনেক সময় জ্বর ভাল হয়ে গেলেও কাশি সহজে ভাল হতে চায় না। শিশুদের কাশির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রয়েছে ঘরোয়া কিছু উপায়। ওষুধ না খেয়েও প্রাকৃতিক কিছু উপায় অবলম্বন করলেই কমিয়ে ফেলা সম্ভব এই ধরনের খুসখুসে কাশি। খুসখুসে কাশি দূর করার ঘরোয়া কিছু উপায় জেনে নিন।

হলু

আধ কাপ জলে এক চা চামচ হলুদের গুঁড়ো এবং এক চা চামচ গোল মরিচ দিন। এরপর এতে একটি লবঙ্গ দিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট ফোটান। এর সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু মেশান। এটি নিয়মিত শিশুকে খাওয়ান কয়েকদিন। এছাড়া এক কাপ জলে এক চা চামচ হলুদের গুঁড়ো এবং এক চা চামচ মৌরি দিয়ে হারবাল চা-ও তৈরি করতে পারেন। তবে এটি দিনে তিনবারের বেশি খাওয়াবেন না এবং একদম ছোট বাচ্চাদেরও দেবেন না।

মধু

শিশুদের জন্যে শুষ্ক কাশি প্রতিকারে মধু বেশ কার্যকরী ভূমিকা নেয়। বাচ্চাদের জন্যে ১ চা চামচ থেকে ১ টেবিল চামচ হতে পারে এর পরিমাণ। মধুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান কাশি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

রসুন

রসুন বাচ্চাদের কাশি সারাতে বেশ কার্যকরী। পাঁচটি রসুনের কোয়া কুচি করে এক চা চামচ ঘিয়ে হালকা করে ভেজে নিন। উষ্ণ গরম থাকা অবস্থায় এটি খাইয়ে দিন ববাচ্চাকে। রসুনের অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং এক্সপেকটোরেন্ট উপাদান কাশি উপশম করে।

পেঁয়াজ

খুসখুসে কাশি দূর করতে পেঁয়াজও বেশ কার্যকর। আধ চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটি দিনে একবার খাওয়ান। পেঁয়াজের ঝাঁজ গলার খুসখুসে কাশি কমাতে সাহায্য করবে।

আদা চা

এটি একেবারে ছোট শিশুদের না খাওয়ানোই ভাল, বাচ্চা মোটামোটি ১০ বছর বয়সের বেশি বড় হলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক কাপ আদা চা খেতে দিতে পারেন। আদার অ্যান্টি ইনফ্লামেটরী উপাদান গলার ভিতরের অস্বস্তিকর অনুভূতি দূর করে। এক কাপ জলে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। এটি দিনে দু বার খাওয়াবেন বাচ্চাকে। এতে শুষ্ক কাশি অনেক কমে যায়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: