মহিলাদের জন্যে অর্গ্যাজম কতখানি গুরুত্বপূর্ণ?

 

প্রকৃতি অন্যান্য প্রাণীদের মতোই প্রজননের বিষয়টি মাথায় রেখেই মানুষকে তৈরি করেছে। তাই যৌনতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শরীর-স্বাস্থ্যের একাধিক বিষয়। যেমন মেয়েদের জন্য অর্গাজম।

পুরুষ ও নারী, দু’জনের শরীরেই যৌনাঙ্গ তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক নিয়মেই। যৌনাঙ্গ এবং যৌনতার অবদান রয়েছে মানুষের স্বাস্থ্যের উপর। যেমন পুরুষদের ক্ষেত্রে নিয়মিত যৌনজীবন প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনাকে কমায়, তেমনই নিয়মিত যৌনজীবন এবং ঘন ঘন অর্গাজম বা চরম তৃপ্তি মেনোপজ ত্বরান্বিত হতে বাধা দেয় এবং মেনোপজের পরেও নিয়মিত যৌনজীবনে সাহায্য করে।

সাধারণত মেনোপজের ফলে মেয়েদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে যৌনাঙ্গে ফ্লুইডের পরিমাণ কমে যেতে থাকে যাকে বলে ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রোফি বা ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস। বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে যে সমস্ত মহিলারা মেনোপজের পরেও নিয়মিত সঙ্গম করেন অথবা হস্তমৈথুন করেন, তাঁদের মধ্যে ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রফির সম্ভাবনা অনেক কম।

মোটামুটিভাবে ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে মেনোপজ হয় বেশিরভাগ মেয়েদের। ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেসের জন্য অনেকেই এই সময় জীবন থেকে যৌনতাকে বাদ দেন। অধিকাংশ মেয়েই এর ফলে মারাত্মক ডিপ্রেশনে চলে যান। এই সময়ে যদি জেল বা লুব্রিকেটর ব্যবহার করে যৌনজীবন অক্ষুণ্ন রাখা যায় এবং শারীরিক মিলনে তৃপ্তি বজায় থাকে তবে ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেসের সমস্যা কমে যায় এবং ডিপ্রেশনও কেটে যায়। এই ব্যাপারে সব মেয়েদেরই পার্টনারের সহমর্মিতা এবং সাহায্য প্রয়োজন। এ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, যে কোনও মেয়েই যদি নিয়মিত যৌনজীবনে অর্গাজমের তৃপ্তি উপভোগ করেন তবে ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেসের সমস্যা সার্বিকভাবেই কম হবে এবং মেনোপজ ত্বরান্বিত হওয়াকেও আটকানো যাবে।

এছাড়া অর্গাজমের সঙ্গে মেয়েদের আয়ুর একটি যোগসূত্র রয়েছে। একটি গবেষণায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ১০০০ জন মহিলার যৌনজীবন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, যাঁরা দীর্ঘদিন তৃপ্ত যৌনজীবন যাপন করেছেন, তাঁরা দীর্ঘায়ু হয়েছেন।

এর মূল কারণ হল এই যে অর্গাজমের সময়ে মেয়েদের শরীরে ৩ রকম হরমোন নিঃসরণ হয়— অক্সিটোসিন, এনডরফিন এবং ডোপামাইন। এই তিনটি হরমোনই মানুষের জীবনের সার্বিক সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই অর্গাজম বেশি হলে মেয়েদের শরীর-স্বাস্থ্য দু’ই ভাল থাকে।   

Leave a Reply

%d bloggers like this: