সেক্সের সময়েই কিভাবে প্রবেশ করে আপনার শরীরে এইচ পি ভি ভাইরাস?

এইচপিভি হল এমন একটি ভাইরাস যা মানুষের দেহে ছড়ায় যৌন সংসর্গের ফলে। প্রায় সব মানুষই জীবনের কোনও না কোনও সময়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন।

হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসে (এইচপিভি) কখনও আক্রান্ত হননি এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে খুব কমই রয়েছে। এটি যৌন সংসর্গের ফলে ছড়ানো সবচেয়ে কমন ভাইরাস। শুধুমাত্র যে অবাধ যৌন সংসর্গ করলেই এই ভাইরাস ছড়ায় তা নয়।

কী এই ভাইরাস

এটি হল এক ধরনের ডিএনএ ভাইরাস। এই ভাইরাস ত্বকের অথবা মিউকাস মেমব্রেনের কেরাটিনোসাইট্‌সে সংক্রমণ তৈরি করে। এর ফলে শরীরের সেই অংশগুলিতে প্যাপিলোমা বা ছোট ছোট ফোস্কার মতো র‌্যাশ হতে দেখা যায়। এই প্যাপিলোমাগুলি ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারাস হলেই বিপদ।

ভাইরাসের ফল

এই ভাইরাস প্রাথমিক পর্যায়ে নেহাতই মামুলি মনে হলেও এ থেকে শরীরে একাধিক ক্যানসারের সম্ভাবনা রয়েছে। সার্ভিক্স, ভালভা, ভ্যাজাইনা, পেনিস, ওরোফ্যারিংক্স ও অ্যানাস— এই সমস্ত অংশে ক্যানসারের অন্যতম মূল কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস। বিভিন্ন ধরনের এইচপিভি ভাইরাস রয়েছে। ৭০ শতাংশ সার্ভিক্যাল ক্যানসার এইচপিভি১৬ ও এইচপিভি১৮ ভাইরাস থেকেই হয়। এছাড়া টনসিল এবং জিভেও ক্যানসার হতে পারে এই ভাইরাস থেকে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নিয়মিত এবং খুব বেশি ওরাল সেক্স করলে মাথা এবং ঘাড়ে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় সাত গুণ আর তার জন্য দায়ী এইচপিভি ভাইরাস।

কীভাবে ছড়ায়

যৌন সংসর্গের মাধ্যমে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে খুব সহজেই বাসা বাঁধে এই ভাইরাস। মেয়েদের যৌনাঙ্গে এই ভাইরাস থাকলে তা সহজেই ছড়ায় পুরুষাঙ্গে। উলটোটাও ঘটে। শুধুমাত্র ইন্টারকোর্স করলেই যে ভাইরাস ছড়ায় তা নয়। মহিলা ও পুরুষ যৌনাঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এলেই এই ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া ওরাল সেক্সের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায় কণ্ঠনালীতেও। এর ফলে হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার হতে পারে।

কী করে বুঝবেন?

এইচপিভি ভাইরাস শরীরে আছে কি না, তা জানার জন্য তেমন প্যাথলজিক্যাল টেস্ট কিন্তু নেই। ৩০ বছরের বেশি বয়সি মহিলাদের জন্য শুধু রয়েছে প্যাপ টেস্ট। কিন্তু পুরুষদের জন্য এই মুহূর্তে কোনও টেস্ট নেই। বেশিরভাগ মানুষ জানতেই পারেন না যে, তাঁদের শরীরে এই ভাইরাস রয়েছে যতক্ষণ না ক্যানসার ধরা পড়ে। তাই ৩০ বছরের বেশি বয়সি মহিলারা অবশ্যই প্রতি ৬ মাস অন্তর প্যাপ টেস্ট করাবেন। পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে যৌনাঙ্গের আশেপাশে ফোস্কার মতো র‌্যাশ দেখলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

সাবধানতা

যৌনতার সময়ে কন্ডোম ব্যবহার করা উচিত সব সময়ে। কিন্তু কন্ডোম পরলেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। শুধুমাত্র ‘একজন’ পার্টনারের সঙ্গে যৌনজীবন যাপন করাই এই ভাইরাস থেকে দূরে থাকার একমাত্র উপায়। তবে এটি দু’জনের জন্যেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ এমনটা নয় যে একজন একনিষ্ঠ থাকবেন এবং অন্যজন অবাধ সংসর্গ করে বেড়াবেন।

ভ্যাক্সিন

এই ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে অগ্রিম ভ্যাক্সিন নেওয়া সম্ভব। তবে এই ভ্যাক্সিন দিতে হয় ১১ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যেই। এই বয়সের ছেলে এবং মেয়ে দু’জনকেই ভ্যাক্সিন দেওয়া সম্ভব। 

Leave a Reply

%d bloggers like this: