শিশুর পা মচকে গেছে? কি করবেন?

শিশুর দৌড়োদৌড়ি, খেলা, হাঁটাচলার সময় অসাবধানতায় অনেকেই হঠাৎ পা মচকে যাওয়ার ঘটনার সম্মুখীন হয়ে থাকে। আর হঠাৎ পা মচকে যাওয়াটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। বেকায়দায় পা মচকে যাওয়ায় পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা হয়, পা ফুলে যাওয়ায় পা ফেলাই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক মতো যত্ন না নিলে এই ব্যথাই ভোগায় বহু দিন। জেনে নিন হঠাৎ সন্তানের পা মচকে গেল কী করবেন।   

১. বিশ্রাম

পা ফুলে গেলে, যন্ত্রণা হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্রাম। যন্ত্রণা কমে গেলেও বিশ্রাম না নিয়ে হাঁটাহাটি, করলে গোড়ালির ফোলা থেকেই যাবে।

২. বরফ

ফোলা কমাতে সবচেয়ে উপকারী বরফ। সরাসরি বরফ দেবেন না, একটা পরিস্কার কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে সেটা দিয়ে সেঁক দেয়াটাই সঠিক উপায়। চোট পাওয়ার প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা বা ফোলা না কমা পর্যন্ত প্রতি এক দুই ঘণ্টা পর পর ১০ থেকে ২০ মিনিট ধরে বরফের সেঁক দিন।

৩. ক্রেপ বা ব্রেস

ফোলা কমাতে যেমন সাহায্য করবে আইস প্যাক, তেমনই যন্ত্রণা উপশমে কাজে আসবে ক্রেপ বা ব্রেস। চোট পাওয়ার প্রথম ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা অবশ্যই ব্রেস লাগিয়ে রাখুন। এতে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে অতিরিক্ত টাইট করে ব্রেস লাগাবেন না। এতে রক্ত জমাট বেঁধে ব্যথা বাড়তে পারে।

৪. পা ঝুলিয়ে রাখবেন না

পা যত নামিয়ে বা ঝুলিয়ে রাখবেন তত ফোলা বাড়বে। তাই দিনে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পা তুলে রাখুন। শোয়ার সময় হার্ট লেভেলের থেকে পা উঁচুতে রাখুন। পা মচকালে চেষ্টা করবেন যত কম হাঁটা যায়।

৫. হাড়ে চিড়

যদি আক্রান্ত জয়েন্ট বেশি ফুলে যায় এবং ব্যথা তীব্র হয়, বুঝতে হবে হাড়ে চিড় ধরেছে বা ভেঙে গেছে। যদি ফুলে না যায় কিন্তু একই সঙ্গে ব্যথাও দীর্ঘদিন ভালো না হয়, বুঝতে হবে লিগামেন্ট বেশি ছিঁড়ে গেছে। উভয় ক্ষেত্রে ডাক্তারের সাহায্য নিতে হবে।

পা মচকানো এড়াতে খেলাধুলা ও দ্রুত হাঁটা-চলার সময় সাবধানে থাকুন, পায়ের পাতার ভারসাম্য বজায় থাকে এমন জুতা পরুন, সিঁড়ি দিয়ে চলাচলের সময় সাবধান হোন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: