ডেকে ডেকে ক্লান্ত, বাচ্চার আর ঘুম ভাঙে না? জানুন কি করতে হবে!

সকালে চোখ খোলেই না। উঠতে দেরি। ফলে চাপ। স্কুলে রোজ লেট। রোজ লেট্ হওয়ার জন্যে পানিশমেন্ট। তাই সকালে ওদের ঘুম ভাঙানোর জেনে নিন কিছু সহজ উপায়।

১. ঘুমানোর সময়ে আশপাশের শব্দ কমান

‘পিসফুল স্লিপ’-এর জন্য আশপাশের শব্দ কমান। একদম নিঃশব্দ আবহে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এতে শিশুর ঘুমও ভাল হবে। সকালে উঠলে আর ক্লান্তিও লাগবে না।

২. রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময়টা ঠিক করুন

একজন শিশুর ৭ থেকে ৮ঘণ্টা ঘুম জরুরি। তাই, একটা রুটিনে ঘুমানোর সময়টাকে বাঁধুন। সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠতে হলে ১১টার মধ্যে বিছানায় শোয়ানোর চেষ্টা করুন।

৩. হাতের কাছে অ্যালার্ম ঘড়ি রাখবেন না

শিশু যদি আলাদা ঘরে ঘুমোয় অ্যালার্মটাকে এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে ওকে উঠে গিয়ে অ্যালার্ম বন্ধ করতে হবে।

৪. অ্যালার্মের জন্যে মোবাইল ফোন দেবেন না 

একটু একটু করে অ্যালার্মের ‘স্নুজ’ বোতামে আঙুল পড়তে থাকে, আর ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যায়।  সকাল ৬টায় ওঠার ছিল ঘুমের নেশায় ১ ঘণ্টা ধরে অ্যালার্মের ‘স্নুজ’ বোতাম টিপে যাওয়ায় ৭টা বেজে গিয়েছে। তাই ‘স্নুজ’ বোতাম টেপার অভ্যাস যাতে সে ত্যাগ করে তার জন্যে মোবাইলে অ্যালার্মের ব্যবস্থা করতে দেবেন না।

৫. পুরনো দিনের অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করুন

পুরনোদিনের অ্যালার্ম ঘড়ি শিশুর বিছানার পাশে রাখুন। সে টের পেয়ে যাবে ঘুম ভাঙাতে কতটা বিরক্তিকর শব্দ এখান থেকে উৎপন্ন হতে পারে!

৬. সকালে সূর্যের আলো দেখান 

শিশুর ঘরে সূর্যের আলো ঢুকতে দিন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে ঘুম থেকে উঠে অন্তত ৩০ মিনিট ধরে সূর্যের আলো দেখলে শিশু যেমন ঝরঝরে অনুভব করবে, তেমনি গোটা দিনে শরীর থেকে ক্লান্তিও দূর হয়ে যাবে।

৭. সকালে এক ব্যায়ামের অভ্যেস রাখুন

হাল্কা শরীর চর্চা আপনার শিশুর শরীরের পক্ষে যেমন ভালো, তেমনি পায়ের স্ট্রেচিং ওদের করে তুলবে সতেজ ও তরতাজা।

৮. সুন্দর প্রাতঃরাশ বানান

সুন্দর প্রাতঃরাশের নেশা সকালে শিশুর ঘুম ভাঙানোর অন্যতম উপায়। এমন সুস্বাদু প্রাতঃরাশ বানান, যা তার রসনাকে জাগিয়ে তুলবে রোজ সকালে আর তাড়াতাড়ি ঘুমও ভেঙে যাবে।

৯. ঘুমানোর আগে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও টিভি বর্জন করান 

ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ৪৫ মিনিট আগে শিশুকে ল্যাপটপ বা টিভি দেখা বা মোবাইল ফোনে কথা বলা থেকে আটকান।

১০. স্নান করান 

সকালে ওঠে প্রথমে যে আবশ্যিক কাজগুলো করাবেন তা হল স্নান। অন্তত ১৫ মিনিট ধরে স্নান করলেও ক্ষতি নেই।

১১. ঘুম পেতে মিউজিক শোনান 

হাল্কা করে মিউজিক শোনান বাচ্চাকে। চোখে লাগে না, এমন লাইট ঘরে ব্যবহার করতে পারেন।

১৩. ঘরে সুগন্ধী ছেটান

বাচ্চা ঘুমোতে যাওয়ার সময় ঘরে একটু সুগন্ধী ছিটিয়ে দিন। সুগন্ধীর গন্ধে ঘুম আসে তাড়াতাড়ি।

১৪. ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলান

ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি ওঠতে আচমকা পুরনো অভ্যাস ত্যাগ করাবেন না। ধীরে ধীরে পুরনো অভ্যাসটা ত্যাগ করান। আগে ৮টায় ঘুম থেকে উঠলে চেষ্টা করুন এখন থেকে ৭টায় ওঠাতে। ৭টায় ওঠাটা অভ্যাসে পরিণত হলে এবার সেটাকে ৬টায় নিয়ে আসার চেষ্টা করুন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: